ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে স্ত্রী ও ৪০ দিন বয়সী কন্যাসন্তানকে বাসায় রেখে শুক্রবার সকালে ঢাকার হেমায়েতপুরে কারখানার কাজে যোগ দেন আব্দুল হাকিম (২৪)। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কারখানার ভেতরে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের কেরিয়াতি গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে আব্দুল হাকিম জীবিকার তাগিদে ঢাকার হেমায়েতপুরের তেঁতুলপাড়া লিলি অয়েলস লিমিটেড ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারের মাঝে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
স্বজনরা জানান, তিন বছর আগে বিয়ে করেন আব্দুল হাকিম। মাত্র ৪০ দিন আগে তাঁর কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। ঈদের তিন দিন আগে ছুটি পেয়ে বাড়িতে আসেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী-সন্তানকে রেখে কর্মস্থলে ফিরে যান।
শুক্রবার সকালে ফ্যাক্টরিতে দুর্ঘটনার শিকার হন শ্রমিকরা। শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাঁকে ও আরও চারজনকে এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, মেয়েকে প্রথমবার কোলে নিয়েছিল ওর বাবা। বলেছিল, এরপর আমাদেরও ঢাকায় নিয়ে যাবে। এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, কখনো ভাবিনি।
নিহত হাকিমের মামা শুভ জানান, পুরোনো মবিল রিফাইন করে নতুন মবিল তৈরির সেকশনে সহকারী সুপারভাইজর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। শুক্রবার পুরোনো মবিল রাখার আন্ডারগ্রাউন্ড হাউস পরিষ্কারের সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
অক্সিজেনের অভাবে একজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে হাকিমসহ কয়েকজন শ্রমিকও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে হাকিমের মৃত্যু হয়।
লিলি অয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ রানা বলেন, পরিবারকে কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।


