× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে হাম-রুবেলার সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি ৪

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁও। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁও। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে হাম-রুবেলা সংক্রমণ। জেলায় এখন পর্যন্ত ৩১ জন শিশুর দেহে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ২ জনের হাম এবং ২ জনের রুবেলা নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ২৯ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টা পর্যন্ত জ্বর, শরীরে লাল ফুঁসকুড়ি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ২ জন শিশু এবং হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ২ জন শিশু আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে। 

ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল থেকে ২ জন এবং হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

উপসর্গ পাওয়া ৩১ জনের মধ্যে ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে রুবেলা তুলনামূলক কম গুরুতর হলেও শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন , হাম মোকাবেলায় হাসপাতালে চার শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুরা বর্তমানে সুস্থতার পথে রয়েছে। কোনো শিশুর জ্বর, ফুসকুড়ি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও আলাদা আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল বাসার মো. সায়েদুজ্জামান জানান, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকার আশেপাশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। উপসর্গ দেখা দেওয়া ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। নতুন সংক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিছুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ ও মার্চের শুরুতে প্রথম হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়ন এবং পৌর শহরের জমিদারপাড়া থেকে ৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকেই প্রথম দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। বর্তমানে জেলায় ২ জন হাম ও ২ জন রুবেলায় আক্রান্ত রয়েছে। এ ছাড়া উপসর্গযুক্ত ২৯ জনের মধ্যে ১৪ জনের রক্তের নমুনা আইপিএইচ ঢাকা মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ২ বছর বয়সী শিশু এখনও হামের টিকা নেয়নি, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে টিকার সংকট থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো ঘাটতি নেই। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টোরে বর্তমানে ৫৫ হাজার ২৫০ ডোজ টিকা মজুত রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!