ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাজধানীতে গৃহবধূকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ, শরীরে মিলল অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তাসলিমা আক্তার (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন জানান, আমরা খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের মর্গ থেকে তাসলিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথমে আমরা জানতে পারি সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। পরে তার শরীর পরীক্ষা করে দেখা যায়, অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমাদের ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহত তাসলিমার স্বামী মো. রশিদ আহমেদ বাপ্পীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিহত তাসলিমার বড় বোন সুরভী আক্তার জানান, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে তার স্বামী মো. রশিদ আহমেদ বাপ্পী হত্যা করেছে। কারণ, আমার বোন রাজু নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এসি কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল। প্রতি মাসে কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করবে বলে জানিয়েছিল। আমার বোন পাশাপাশি এক বান্ধবীর সঙ্গে কাঁচামালের ব্যবসা করত। ওই বান্ধবীর সঙ্গে রাজুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ বিষয় নিয়ে রাজুর সঙ্গে প্রায়ই কথা হতো। এ নিয়ে আমার বোনকে সন্দেহ করত তার স্বামী মো. রশিদ আহমেদ বাপ্পী। পরে রাজুর সঙ্গে তাসলিমার সম্পর্কের অবনতি হয়। একপর্যায়ে এসি কেনার জন্য নেওয়া টাকা ঠিকমতো পরিশোধ না করায় কথা কাটাকাটি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে স্বামীর বাড়ির সপ্তম তলায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়।

তিনি আরও জানান, নিহত তাসলিমা এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন। তার বোনের আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।