ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফুল ও গাছে সাজিয়ে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে চায় ডিএসসিসি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঢাকা শহরকে ফুল ও গাছে সাজিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

বুধবার (২০ মে) সকালে রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সবজি বাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন ও ল্যান্ডস্ক্যাপিং কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, একসময় দুর্গন্ধের কারণে যেসব জায়গায় কেউ এসটিএস নির্মাণ করতে দিতে চাইত না, আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন আমরা সেখানে দুর্গন্ধ দূর করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে তিনটি এসটিএসকে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো এসটিএসকে এভাবে রূপান্তর করে নগরবাসীকে একটি নান্দনিক পরিবেশ উপহার দেওয়া হবে।

জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ ও যানজটমুক্ত রাখা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একা সিটি করপোরেশন বা প্রশাসকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। জনগণ পাশে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, আমাদের নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিনিয়ত ঢাকা শহরের খোঁজখবর রাখছেন। পার্ক, খাল ও নগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। সরকারপ্রধান নিজে সচেতন ও দূরদর্শী হওয়ায় আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএসসিসি এখন থেকেই প্রস্তুত বলে জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় জরিপ চালানো হচ্ছে এবং যেখানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, সেখানে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা যার যার বাড়ি, আঙিনা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখুন। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

এদিকে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি পশুর হাট বসানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। ক্রেতা-বিক্রেতা ও নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা এবং সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি হাটে একটি করে কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। গবাদিপশু ও মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম (ডাক্তার) নিয়োজিত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পুলিশের বিশেষ টহল নিয়োজিত থাকবে।

হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, “ইজারাদারদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএসসিসির নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি রয়েছে। ঈদের দিন ও তার আগের রাত থেকেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হবে। ইনশাআল্লাহ, কোরবানি শেষ হওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে।”

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।