মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংঘর্ষের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এ পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে বাংলাদেশেও।
চট্টগ্রামে অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার। এখানে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল শোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল, ন্যাফথাসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়। পরে এসব পণ্য পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে।
বর্তমানে রিফাইনারিতে প্রায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। শোধনাগারের দৈনিক ক্ষমতা অনুযায়ী, এই মজুত দিয়ে ২০-২২ দিন পর্যন্ত উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নির্ধারিত সময়ে নতুন তেল চালান না এলে উৎপাদনে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে তেল আনতে গিয়ে একটি জাহাজ আটকে পড়েছে। নরডিক পলুকস নামের জাহাজটি ৩ মার্চ তেল লোড করে রওনা দিয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আবার টার্মিনালে ফিরে যেতে হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি সেখানেই অবস্থান করছে।
রিফাইনারি সূত্র জানায়, শোধনাগারের মোট সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টন। বর্তমানে মজুত থাকা ১ লাখ টন তেল থেকে উৎপাদন করা সম্ভব: প্রায় ৪০ হাজার টন ডিজেল, ১৫-২০ হাজার টন পেট্রোল ও অকটেন এবং প্রায় ৩০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে আসে। এই প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা চলায় সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে দেশের জ্বালানি সরবরাহ মূলত পরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল, যা মোট আমদানি-সংক্রান্ত ৮০ শতাংশ। তাই আপাতত বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলামও জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি অব্যাহত আছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত ও চীনের মতো দেশ থেকেও তেল সরবরাহ হচ্ছে।


