মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এশিয়ার বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ফের ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ রেকর্ড পরিমাণে জরুরি তেল মজুত ছাড়ার ঘোষণা দিলেও বাজারে দাম কমেনি। গত সোমবার চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারে উঠেছিল। পরে কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনায় আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে ইরানে হামলার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০২২ সালেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা জবাবে লেবাননের রাজধানী বৈরুত-এ হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা করছে ইসরায়েল।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেও বলেছেন, চলতি সপ্তাহে সংঘাত থামার সম্ভাবনা নেই। তার এমন বক্তব্যের জবাবে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে ইরান।
বুধবার ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কাছে ‘এক লিটার তেলও’ পৌঁছাতে দেবে না। এর আগেও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিল দেশটি।


