জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রতি বছরের মতো এবারও প্রকাশ করতে যাচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ। এনসিটিবি জানিয়েছে, রোববার বেলা ১১টায় এনসিটিবি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন সংস্করণ উদ্বোধন করা হবে।
আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে এনসিটিবির ওয়েবসাইটে এসব পাঠ্যবইয়ের পিডিএফ কপি পাবেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এনসিটিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম আসাদুজ্জামান শুক্রবার রাতে বলেন, শিক্ষার্থীরা বছর শুরুর আগেই এবার নতুন পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ পড়তে পারবে। রোববার থেকে এনসিটিবির ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের পিডিএফ কপি পাবে শিক্ষার্থীরা।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে এবার প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপা হবে, যার শতভাগই দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ছাপানোর কাজ চলছে।
গত ১৬ ডিসেম্বর প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ কপি নতুন বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য ২১ কোটি ৪৩ লাখ বই ছাপার কাজ অনেকটাই বাকি রয়েছে। তাই নতুন বছরের প্রথম দিনের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর হাতে সব নতুন বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
এস এম আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা বই পেতে দেরি হলেও যেন অনলাইন থেকে সংগ্রহ করে পড়া চালিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করতেই বছর শুরুর আগে এবার অনলাইনে বই প্রকাশ পাচ্ছে।
এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান শুক্রবার রাতে বলেন, এখন পর্যন্ত মোট বইয়ের ৫৫ শতাংশ উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে। আমাদের ৭১ শতাংশ বই ছাপানোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ। আমরা আশা করছি এবতেদায়ী পর্যায়ে সব বই এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির সবগুলো বই বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে পারবো। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ৭০ শতাংশ বই বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীরা পাবেন। বাকি বই ১৫ জানুয়ারির মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে।
গত বছরের শেষ দিকে এসে শিক্ষাক্রম বাতিল করে পুরোনো শিক্ষাক্রমে ফেরা এবং বই পরিমার্জনে ‘সময় লাগায়’ চলতি বছর মাধ্যমিকের সব বই হাতে পেতে শিক্ষার্থীদের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার সেপ্টেম্বরে মাধ্যমিকে বই ছাপার কাজ শুরুর করার পরিকল্পনা করে এনসিটিবি।
তবে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি প্রথম দফায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের বই ছাপার কাজ শুরু হতে ‘দুই মাস’ দেরি হয়। নভেম্বরে শুরু হয় মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ী পর্যায়ের ২১ কোটি ৪৩ লাখ কপি বই ছাপার কাজ।



