পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিবিপ্রবি) উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন খেলার মাঠে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম প্রধান অতিথি ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আকতার হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন, পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, সেক্রেটারি জহিরুল হক, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ পান্না লাল রায় এবং পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুছা খানের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক মাঈন মোল্লার সঞ্চালনায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা যুবায়ের আহমাদ পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি রমজান মাসকে আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি অর্জন ও গুণাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার অনন্য সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। একইসঙ্গে তিনি মুসলিম উম্মাহসহ বিশ্বের সব মানুষের শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, রমজান শ্রেষ্ঠতম মাস। এই মাসেই মহান আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ আল কোরআন নাজিল করেছেন, যা বিশ্ব মানবতার মুক্তির সনদ। রমজান মাস গুনাহ থেকে মাফ পাওয়ার মাস; তাকওয়া অর্জনের মাস। এ মাসের শিক্ষাকে বাস্তবজীবনে কাজে লাগিয়ে বাকি ১১ মাস জীবন পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রোজা পালনের মাধ্যমে যেমন পরকালে মুক্তি পাওয়া যায় তেমনি শারীরিকভাবেও উপকার পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, রোজা পালনের মাধ্যমে ক্যানসার, হৃদরোগসহ জটিল ও কঠিন রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
এ সময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাজনীতিবিদ, স্থানীয়রা সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাফেজ ফাহিম আহমেদ। এরপর রমজান মাসের তাৎপর্য, আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবকল্যাণে এর ভূমিকা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সবার অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে।



