ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যে শিক্ষকদের বদলি নিয়ে ধোঁয়াশা দূর করল মন্ত্রণালয়

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ছবি- সংগৃহীত

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির নতুন নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানদের বদলির সুযোগ রাখা হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদেরও বদলির আওতায় আসছেন বলে পোস্ট করা হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, এই ধরনের খবরের কোনো ভিত্তি নেই।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আপাতত প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বদলির সুযোগ রাখা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে তাদেরও বদলির সুযোগ দেওয়া হতে পারে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে প্রধান ও সহকারী প্রধানরা বদলির আওতায় নেই। সফটওয়্যার অনুমোদনের পর ভবিষ্যতে নীতিমালার সংশোধনের মাধ্যমে তাদেরও বদলির সুযোগ আসতে পারে।

এদিকে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন বদলি সফটওয়্যারের ডেমো প্রদর্শনীর সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সভায় সফটওয়্যারের কার্যক্রমের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১টায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সফটওয়্যার প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হবে। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সভাপতিত্ব করবেন এবং উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং টেলিটক সফটওয়্যারটির ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। কার্যক্রম সন্তোষজনক হওয়ায় আগামীকালই সফটওয়্যারের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।’

এর আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। তারা শুধুমাত্র এনটিআরসিএ কর্তৃক প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকেরা এই সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আবেদন বন্ধ করে দেয়।

শিক্ষকদের আন্দোলনের পর মন্ত্রণালয় নতুন করে বদলির উদ্যোগ নেন এবং একটি সংশোধিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সফটওয়্যার তৈরি না হওয়া, নীতিমালা সংশোধন এবং একাধিক রিটের কারণে এখন পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম শুরু হয়নি।

এবারের ডেমো সভা ও সফটওয়্যারের চূড়ান্ত অনুমোদন কার্যক্রম শুরু হলে, বহু বছর ধরে অপেক্ষার অবসান ঘটবে এবং শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সহজ হবে।