বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম চালুর পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে। এ লক্ষ্যে বদলি-সংক্রান্ত সফটওয়্যার প্রস্তুত করতে টেলিটককে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
মাউশির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে। সফটওয়্যার প্রস্তুতির পর মাঠপর্যায়ে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বদলি প্রক্রিয়ায় শুধু শিক্ষকই নয়, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান এবং অন্যান্য কর্মচারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফলে সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় কিছু হালনাগাদ কাজ চলছে, যা শেষ করতেই এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার প্রস্তুত হলে ১ এপ্রিলই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য আহ্বান করা হবে। তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হলে পরবর্তী ধাপে বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, এতদিন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সরাসরি বদলির সুযোগ ছিল না। তারা কেবল এনটিআরসিএর গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতেন। প্রথম তিনটি গণবিজ্ঞপ্তিতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুবিধা পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে এ সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে শিক্ষক আন্দোলনের মুখে বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতা যেমন আদালতে রিট, সফটওয়্যার প্রস্তুতে বিলম্ব এবং নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজন ইত্যাদি কারণে দীর্ঘদিন ধরেই কার্যক্রমটি আটকে ছিল।
যদিও সংশোধিত নীতিমালা ইতোমধ্যে জারি হয়েছে, সফটওয়্যার না থাকায় বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের আগে সফটওয়্যারের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পর নতুন করে গতি পেয়েছে পুরো প্রক্রিয়া। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার প্রস্তুত হলে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও বদলি কার্যক্রম শুরু করতে চায় মাউশি।


