ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি- সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট কাটাতে বড় ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুতই শুরু হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেটে জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে, আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করতে।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষক স্বল্পতা মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে একটি ‘পুল’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

পাবলিক পরীক্ষার সময় সাধারণ পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক বহুমুখী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বর্তমান পরীক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দেশের সম্ভাবনাময় জনশক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথাও উল্লেখ করে তিনি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকির আহ্বান জানান।

নকলের পরিবর্তিত ধরন নিয়েও সতর্ক করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন আর শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে নয়, ডিজিটাল মাধ্যমেও নকলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ সমস্যা দূর করতে শিক্ষকদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা গেলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এছাড়া কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।