ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ এবং পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী করতে একটি নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয় বাইরে ঘোরাঘুরি কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক ও মোটিভেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন বিভাগ থেকে অধিভুক্ত সব কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার যৌথ সভার সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনার আলোকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পরীক্ষায় অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া এবং সহপাঠ কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা বাড়ানো। এসব বাস্তবায়নে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে চাঁদপুরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা বাইরে ঘোরাফেরা করলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারে। তার এই বক্তব্যের পর চাঁদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালানোর ঘটনা সামনে আসে, যেখানে কয়েকজনকে আটক করা হয়। রাজধানীতেও একই ধরনের অভিযানের খবর পাওয়া যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এই পরিস্থিতিতে সমালোচনার মুখে পড়ে পরে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, বিষয়টি কোনো কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার মানসিকতা থেকেই বলা হয়েছিল। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্ধ্যার সময়টিকে পড়াশোনার জন্য কাজে লাগানোর গুরুত্ব বোঝাতেই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন।