চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের সমারম্ভ (ওরিয়েন্টেশন) অনুষ্ঠান আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় সিভাসু অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সমারম্ভ অনুষ্ঠানে সমারম্ভ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
সমারম্ভ বক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বের নামি দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সম্পর্ক রয়েছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা সেসব বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাচ্ছে। উচ্চশিক্ষার জন্য তোমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশে-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজে করে চলেছে। আজকে তোমরা যারা সিভাসু পরিবারের নতুন সদস্য হয়েছ-আমি আশাকরি তোমরাও তোমাদের সিনিয়রদের পথ ধরে এগিয়ে যাবে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও অগ্রযাত্রা সমুন্নত রাখবে।’
নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সিভাসু'র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘শুধু সার্টিফিকেটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নয়, শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম কাজ।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশাল জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ করার সময় হতাশ হওয়া যাবে না। প্রতিদিন নিজেকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে হবে। সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে। সবরকম প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
সিভাসু'র উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমান যুগের সকল ধরনের প্রযুক্তির সাথে তোমাদের অভ্যস্ত থাকতে হবে। কিন্তু প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে ব্যবহার করে ডিগ্রি অর্জনের পর দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. নূরুল হক, ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শিরীন আক্তার এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ফয়সাল।
সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রাশেদুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। চার অনুষদ থেকে চারজন নবাগত শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নাঈমা ফেরদৌসী হক ও ড. মেহের নাহিদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন