বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে লিখিত পরীক্ষা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রার্থী বাছাই করা হবে কেবল প্রিলিমিনারি (MCQ) এবং ভাইভার পরীক্ষার মাধ্যমে। এত বড় সংখ্যক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, গত বুধবার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আয়োজিত কর্মশালায় এই প্রস্তাব করা হয়।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রশাসন ও অর্থ অনুবিভাগের সদস্য এরাদুল হক। সঞ্চালক ছিলেন এনটিআরসিএ’র সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক।
এক কর্মকর্তা জানান, ‘এনটিআরসিএ’র নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতি বছর ১৫-২০ লাখ প্রার্থী আবেদন করেন। এত বড় সংখ্যক প্রার্থীর লিখিত খাতা মূল্যায়নে সময় লাগবে। এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হলে দ্রুত প্রার্থী বাছাই করা সম্ভব। তবে প্রশ্নের মান কঠোর রাখা হবে।’
তিন বিভাগের জন্য পরীক্ষা প্যাটার্ন
স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষায় ২০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী স্কুল-কলেজ ও কারিগরিতে ১০০ নম্বর সাবজেক্টিভ ও ১০০ নম্বর জেনারেল, মাদ্রাসায় ১৪০ নম্বর সাবজেক্টিভ ও ৬০ নম্বর জেনারেল রাখা হতো।
কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে, পৃথক নম্বর বিভাজন করলে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। এ জন্য তিন বিভাগের জন্য একই পরীক্ষা প্যাটার্ন রাখার বিষয়ে ভাবনা চলছে। বিষয়টি এনটিআরসি’র বোর্ড সভা ও পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সভায় চূড়ান্ত করা হবে।
ভাইভার নম্বর যুক্ত করার সম্ভাবনা
এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন পরীক্ষায় আগে কখনো ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর অন্তর্ভুক্ত থাকে। ভাইভার নম্বর যুক্ত না হলে প্রার্থীর প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই করা কঠিন। আমরা আশা করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের মতামত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।’
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন