জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে শুরু হওয়া গণনা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় পর্দা এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা তিনটি বড় ডিজিটাল বোর্ডে ভোট গণনার দৃশ্য দেখছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের লাইভে নজর রাখছেন।
এরআগে, সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ এবং বিকেল ৩টায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ বন্ধ হলেও ভোট নেওয়া চলেছে প্রায় ৪টা পর্যন্ত। পরে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্সগুলো কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে আনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে স্থাপন করা নিয়ন্ত্রণকক্ষে যন্ত্রের সাহায্যে ভোট গণনা করা হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জানান, প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করবেন। সব কেন্দ্রের ফল সমন্বয় করার পর কমিশনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
এবারের নির্বাচনের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে জকসু ভোটের জন্য, আর হল সংসদের ভোটকেন্দ্র সংখ্যা একটি। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ১৬,৬৪৫ জন ভোটার এবং হল সংসদে ১,২৪২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী আইন বিভাগে ৮১ শতাংশের বেশি এবং নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট কাস্টিং হয়েছে। নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলে ভোটার উপস্থিতি ছিল অভূতপূর্ব। হলের মোট ১,২০০ ভোটারের মধ্যে ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা এবারের নির্বাচনে একক কেন্দ্র হিসেবে সর্বোচ্চ।
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, আইন বিভাগের ৫২৬ জন ভোটারের মধ্যে ৪৩০ জন ভোট দিয়েছেন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একাউন্টিং বিভাগে ৭৫১ জন শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। মার্কেটিং বিভাগে ভোট দিয়েছে ৪০৮ জন এবং ফিন্যান্স বিভাগে ৩৯৪ জন।
কলা অনুষদে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে বাংলা ও ইতিহাস বিভাগে। বাংলায় ৪৭৯ জনের মধ্যে ৩৬৪ জন এবং ইতিহাসে ৪৮৫ জনের মধ্যে ৩৬০ জন শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সাংবাদিকতা বিভাগে ৩৩৮টি, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ৩২৯টি ভোট পড়েছে। আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে ৪১২ জন ভোটারের মধ্যে ৩২০ জন ভোট দিয়েছেন।
বিজ্ঞান ও চারুকলা অনুষদেও ভোটের হার সন্তোষজনক। রসায়ন বিভাগে ৩৪৭, গণিত বিভাগে ৩২৫ জন শিক্ষার্থী ভোট প্রদান করেছেন। চারুকলা অনুষদের ড্রয়িং, পেইন্টিং ও প্রিন্টমেকিং বিভাগে ১৬৫, মনোবিজ্ঞানসহ শিল্পকলা সংশ্লিষ্ট বিভাগে ১৬৮, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ১৪৪ এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে ১০০ জন শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো ক্যাম্পাসে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ও ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ একটি কন্ট্রোল রুমও পরিচালনা করেছে।
জকসু প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২০ বছর পর এই প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর এতদিন শিক্ষার্থীরা এই ধরনের নির্বাচনের সুযোগ পাননি। এবারের নির্বাচনের দিনভর ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ভোটগ্রহণের তারিখ ছিল ৩০ ডিসেম্বর, তবে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন তারিখ হিসেবে ৬ জানুয়ারি ঘোষণা করে।




