ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাকসু জিএস আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে ছাত্রদলের মানববন্ধন

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। কর্মসূচি শেষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনের প্যারিস রোডে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীবের কাছে তারা স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘আম্মারের ঠিকানা, পাবনা পাবনা’, ‘পাগলের ঠিকানা, পাবনা পাবনা’ স্লোগান দেন।

মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী, সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু, রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন।

শাকিলুর রহমান সোহাগ সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে সম্পর্কিত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘একজন পাগল তারুণ্যের উন্মাদনার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে যা-তা করে বেড়াচ্ছে। আমি বলতে চাই, তারুণ্যের উন্মাদনা আর মানসিক বিকার এক নয়। মানুষ যখন শেষ পর্যায়ে চলে আসে, তখন বলা হয় তাকে পাগলা কুত্তায় কামড় দিয়েছে। প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা দ্রুত এই পাগলা কুত্তার মানসিক সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন। যদি আপনি তা করতে না পারেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের একটি প্রতিনিধি দল আছে, যেখানে মানসিক ভারসাম্যহীনদের নেওয়া হয় এবং ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। অনুরোধ করুন, তারা যেন এই পাগলা কুত্তাকে ভ্যাকসিন দেয়।’

সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুস্থ রাখার জন্য আমরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মানসিক ভারসাম্যহীন শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। যদি তা না করা হয়, আমরা ধরে নেব এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে ঘটেছে।’

সংহতি জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এই ব্যানার ছিঁড়ে জাতীয়তাবাদী দলকে নিঃশেষ করা যাবে না। যেভাবে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, এতে আমাদের হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আমরা ছাত্রদলের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও মনোবিদ থাকা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা ও নিয়মিত পরিচর্যার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, যিনি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও আচরণগত জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, উপযুক্ত ও নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শের অভাবে তার আচরণে অসংগতি দেখা দিচ্ছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একজন শিক্ষার্থীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপাচার্যকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করতে। চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য যেন না হয়, তার বিষয়েও সদয় দৃষ্টি কাম্য। তারা বিশ্বাস করেন, উপাচার্যের বিচক্ষণ নেতৃত্বে বিষয়টি মানবিকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গতকাল দুপুরে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরের সামনে প্যারিস রোডে টানানো ব্যানারটি গতকাল দুপুরে ছিঁড়ে ফেলা হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আম্মার তার ফেসবুক পোস্টে জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্যানারটি বিকেল দুইটার আগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য।