ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

উদ্বোধনের আগেই ক্ষতির মুখে জাবির চার কোটি টাকার খেলার মাঠ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৩:২২ এএম
জাবির নতুন খেলার মাঠ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

উদ্বোধনের আগেই অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আল বেরুনী হলের পেছনে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ–১। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর ও উদ্বোধন না হলেও বহিরাগতদের অবাধ চলাচল ও অননুমোদিত ব্যবহারের কারণে মাঠের মাটি ও ঘাস নষ্ট হচ্ছে।

প্রায় তিন লাখ বর্গফুট (প্রায় ২০ বিঘা) জায়গাজুড়ে চার কোটি আট লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাঠটি যৌথভাবে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। মাঠটির ক্রিকেট পিচ তৈরির জন্য বিশেষ ধরনের মাটি আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মাঠটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর একটি আধুনিক খেলার মাঠ নির্মিত হলেও যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে তা উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। 

তারা বলেন, প্রকল্পটি যেন টেকসই ও উচ্চমানের ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে গড়ে ওঠে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও পেশাদার পর্যায়ের জবাবদিহিতা জরুরি।

এ বিষয়ে জাকসুর সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান বলেন, মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘাসের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে শারীরিক শিক্ষা বিভাগকে সম্পৃক্ত করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, প্রকল্পটির মোট বাজেট চার কোটি আট লাখ টাকা। তবে ঘাস স্থাপনে বেশি ব্যয় এবং সার্বিক সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে মাঠটি উদ্বোধনের আগে সংরক্ষিত করে রাখা সম্ভব হয়নি। বকেয়া পরিশোধ ও বাজেটসংক্রান্ত নিশ্চয়তা ঝুলে থাকায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াও স্থবির হয়ে পড়ে। এতে বহিরাগতদের কারণে মাঠটি ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ গ্রহণ না করা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই থাকবে।

মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রানাকে আহ্বায়ক, শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক দেবব্রত পালকে সদস্যসচিব এবং ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন, উপপরিচালক মো. আজমল আমীন টুটুল ও বিসিবির মাঠ প্রস্তুতকারী খাইয়রুল কবীর খোকনকে সদস্য করা হয়েছে।

মাঠ পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য ও শারীরিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন বলেন, মাঠের ক্ষয়ক্ষতি ও অননুমোদিত ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, আগামী বুধবার মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। মাঠের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে শারীরিক শিক্ষা বিভাগে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।