ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঝগড়া মেটাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ জাবি ছাত্র রনি মারা গেছে

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০২:০৪ এএম
মো. সাইফুল ইসলাম রনি। ছবি : সংগৃহীত

দুই ভাইয়ের মধ্যে চলমান ঝগড়া থামাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম রনি। 

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় রনির দাফন সম্পন্ন করা হয়। এই এলাকাতেই ঘটেছিল মর্মান্তিক ঘটনাটি।

এর আগে গত রোববার আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুস সোবহান রায়হানও রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত রনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারসহ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বসবাস করছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি রাত পৌনে ৯টার দিকে ইসলামনগর এলাকায় আব্দুস সোবহান রায়হান তার ভাই আব্দুর রাহাতের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে নিজের মোটরসাইকেল থেকে অকটেন বের করে ঘরের ভেতরে ছিটিয়ে দেন।

এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে জাবি শিক্ষার্থী রনিসহ কয়েকজন ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। হঠাৎ রায়হান একটি লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়।

ঘটনায় ছাত্রদল নেতা রনি, তার সঙ্গে থাকা মোহাম্মদ হাসিনুর রহমান, আব্দুস সোবহান রায়হান এবং তার ভাই আব্দুর রাহাত অগ্নিদগ্ধ হন। দগ্ধ অবস্থায় রনি ও হাসিনুর রহমানকে সেদিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। রায়হান ও তার ভাই রাহাতকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হানের মৃত্যু হয়।