ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনী গবেষণায় উৎসাহিত করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত আইসিটি ফেলোশিপ অর্জন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের চার শিক্ষার্থী।
ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—মুস্তাকিম পিয়াস, মারুফা ইয়াসমিন মিশু, জুবায়ের রহমান ও সোলাইমান হোসাইন। তারা একযোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই সম্মানজনক আইসিটি ফেলোশিপ অর্জন করেন।
ফেলোশিপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
গবেষণা, উদ্ভাবনী কার্যক্রম এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জনসেবায় অবদানের ভিত্তিতে তিনটি ধাপে এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহ প্রদান, প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজে লাগানো।
গবেষণায় কী করবেন ফেলোশিপপ্রাপ্তরা
ফেলোশিপপ্রাপ্ত মুস্তাকিম পিয়াস অ্যাডাপটিভ মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বিদ্যমান রুল-বেসড ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা দূর করে জিরো-ডে সাইবার আক্রমণ শনাক্তে কাজ করবেন। তার গবেষণা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফেলোশিপপ্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই সম্মানজনক গবেষণা ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হতে পেরে আমি আনন্দিত। বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী ও অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ স্যারের অবদান অনস্বীকার্য। এই অর্জন আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি একটি বড় দায়িত্ব।’
মারুফা ইয়াসমিন মিশু আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অটিজম শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে গবেষণা করবেন। তার গবেষণা অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘২০২৫ সাল আমার একাডেমিক জীবনে এক পরম আশীর্বাদ। মহান আল্লাহর রহমতে আমি এই ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হয়েছি। আমার বাবা-মা, শিক্ষকবৃন্দ ও সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম স্যারের দিকনির্দেশনা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।’
জুবায়ের রহমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে রেটিনার ইমেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও রোগের স্তর নির্ধারণে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাচ থেকে একসঙ্গে চারজনের এই অর্জন বিভাগের জন্য বড় সাফল্য। আমার সম্মানিত সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. আলমগীর স্যারের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
সোলাইমান হোসাইন তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা খাতে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালনা করছেন। অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই ফেলোশিপ আমাকে সমাজ, দেশ ও প্রযুক্তির অগ্রগতির জন্য নতুন কিছু করার সুযোগ করে দেবে।’
শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ বলেন, ‘নিজের অর্জনের চেয়ে শিক্ষার্থীদের অর্জন আমাদের অনেক বেশি আনন্দ দেয়। গবেষণাক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে, এই অর্জন তার প্রমাণ। এই সাফল্য শুধু চার শিক্ষার্থীর নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের।’

