জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট বিবৃতিটি একপাক্ষিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে তার মতামত বা উদ্বেগ প্রতিফলিত হয়নি।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাকসুর প্যাডে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অবস্থান তুলে ধরা হয়। বিবৃতিটি জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, নোয়াখালির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি এখনো মেডিকেল রিপোর্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন বা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সঙ্গে আমি একমত নই।
তিনি আরও বলেন, প্রমাণভিত্তিক অবস্থান ছাড়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন নয়।
ভবিষ্যতে জাকসুর যেকোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান গ্রহণের আগে অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এতে ছাত্র সংসদের প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
এ বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভিপি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তবে তিনি সমর্থন দেননি। জাকসু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থে জাকসু সবসময় সোচ্চার থাকবে। কোথাও পক্ষপাত থাকলে শিক্ষার্থীরাই তা তুলে ধরবে। এখানে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগটি স্পষ্ট নয়।
জিএস জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারির বিবৃতিতে নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং নোয়াখালির ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে এক সাংবাদিককে তুলে নেওয়ার অভিযোগে আশঙ্কা প্রকাশ এবং সব রাজনৈতিক দলকে সহিংসতার রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে জাকসুর অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

