ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যেসব শিক্ষার্থীকে স্কুলে না পাঠানোর অনুরোধে নোটিশ জারি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে ৫৬টিরও বেশি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে শিশু ভর্তি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের একাধিক স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের উদ্দেশে লিখিত নোটিশ জারি করেছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, জ্বর, ফুসকুড়ি বা সংক্রামক রোগের উপসর্গ দেখা দিলে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে না পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান মৌখিকভাবেও একই নির্দেশনা দিচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির নাক ও গলার মিউকাস মেমব্রেনে অবস্থান করে এবং মূলত কাশি, হাঁচি, এমনকি কাছাকাছি অবস্থানে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্কুল বা খেলার মাঠের মতো জনাকীর্ণ স্থানে এই ভাইরাস দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। তাই অনেক পরিবারই স্কুলগামী শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

এদিকে, সন্দেহজনক হাম বা এ রোগের উপসর্গ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে অতিসংক্রামক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর বেশির ভাগই ঢাকা বিভাগে ঘটেছে।

এ সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৪১ শিশু। তাদের মধ্যে ২২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে।

বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একাধিক শিক্ষার্থী একই শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অবস্থান করায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই শুরু থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উপস্থিতি নীতিতেও সাময়িক নমনীয়তা দেখানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে অসুস্থতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অভিভাবকদের মতে, যেসব জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় সাময়িকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।