ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শূন্যপাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যারা জিরো পারসেন্ট পাস করবে সেই স্কুলে এমপিও ক্যানসেল করতাম। এবার করবো না। কারণ হঠাৎ করে আপনাদের বলছি ভালো করতেই হবে, আপনারা হঠাৎ করে সুশিক্ষক হবেন, আবার আমি আইন রাখবো এই দুইটা বিষয় তো একসঙ্গে যায় না। কিন্তু আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে নকল যেনো না হয়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তানরা নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াবেন না। তার মানে নামি দামি প্রতিষ্ঠানে গ্রামের শিক্ষকরা পড়াবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সন্তান পড়েন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন আবার গ্রেডিং শুরু করে দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্দাথ বিজ্ঞানের এক স্বনামধন্য শিক্ষক আমাকে এক মাসের মধ্যে বলে ফেলেছেন ব্যর্থ মন্ত্রী পদত্যাগ করা উচিত। উনি নিজের শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পড়ান না খাতা দেখেন না এজন্য কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বববিদ্যালয়ের মান নেমে গিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে আগে জিজ্ঞেস করতাম কোথায় পড়েছো? বলতেন জিলা স্কুলে পড়েছি। জিলা স্কুল মানেই নম্বর ওয়ান স্কুল। কিন্তু এখন গিয়ে দেখেন জিলা স্কুলের দায়িত্বে ডিসি সাহেবরা, তাদের ছেলে-মেয়েরা ঢাকায় থাকেন, ঢাকায় পড়ালেখা করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বাধ্যতামূলক করা উচিত জিলা স্কুলে ডিসিদের সন্তান পড়ানো। এগুলো খুব মসাইক্রোস্কোপিং ব্যাপার, এগুলো আমাদের দেখতে হবে।

ড. মিলন বলেন, সুন্দরভাবে পরীক্ষা নিতে হবে। আবার বইলেন না পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ ছিলো না সেজন্য ক্যামেরাগুলো অন ছিলো না। যারা এটা বলবেন আমি মনে মনে ভাববো, ডাল মে কুচ কালা হে। তারপর কিন্তু আমার ইনভেস্টিগেশন শুরু হবে। কারণ আইপিএস দিয়ে যদি হেডমাস্টারের রুমে একটি ফ্যান চলতে পারে, আইপিএসে কিন্তু ক্লোস সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা চলতে খুব কম চার্জ লাগে- এটা আমরা জানি। তারপরও আমরা বিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি দিয়ে দেবো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি দেয়া হবে। ট্যাকনিক্যাল রিজন হলে কিন্তু আপনার কোনো রিজনেবল রিজন থাকবে না। আর যদি কেউ রিজনেবল রিজন করেন তাহলে বুঝবো চালাকি হচ্ছে তখন ওইদিকেই কিন্তু আমার ধনুক যাবে বেশি। ভিডিও রেখে দেবেন আর্কাইভে সব ডকুমেন্টস, আমি কোনটাকে নিয়ে ইনভেস্টিগেশন শুরু করবো এটা আপনি বলতে পারবেন না। ওই দলিল যেনো তামাদি না হয়। সেভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি গিয়েছিলাম সিরাজগঞ্জে, খুব সুন্দর স্কুল সবকিছু ভালো কিন্তু ফ্লোর পাকা না। আমি সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার সব ভালো এই স্কুলের ফ্লোর পাকা না কেনো? ওরা বললো, ফ্লোর পাকা করলে নাকি গরম হয়ে যায়।