আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্ক এমনকি প্রশাসনের খবরদারি কোনো কিছুই আটকাতে পারেনি তাকে। একের পর এক ব্যতিক্রমি ও বিতর্কিত কাজ নিয়ে প্রায় সময় খবরের শিরোনাম হয়েছেন। তার মন যা চাই তাই করেন, মানেন না কোনো ব্যকরণ করেন না তোয়াক্কা। তিনি হলেন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।
বগুড়ার কেবল ব্যবসায়ী থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ছিপছিপে গড়নের এই মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। অংশ নিয়েছেন বেশ কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। তবে ভোটকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ তুলে তিনি সেসব নির্বাচনকে বিতর্কিত আখ্যা দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে ‘আমজনতা’ দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি হিরো আলম। এ ছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। নতুন করে ফের এমপি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হিরো আলম।
কারণ নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে বলে জানিয়েছে দলটি। পরবর্তী আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হলে ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম সম্ভাব্য উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এক অডিওবার্তায় হিরো আলম বলেন, তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা সংসদ সদস্য হওয়ার।
তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তাই যেখানেই উপনির্বাচন হবে, সেখানেই প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পাশাপাশি তিনি দেখতে চান, সুষ্ঠু নির্বাচনেও তার ওপর কোনো ধরনের হামলা বা বাধা আসে কি না।
হিরো আলম বলেন, ‘আমার ওপর জামায়াত অ্যাটাক করে, বিএনপি অ্যাটাক করে নাকি এনসিপি অ্যাটাক করে। কয়েকবার নির্বাচনে আমি লড়েছি, পাশও করেছি, এবার উপ-নির্বাচনে দেখি জনগণ কী করে।’
এখন দেখার বিষয় গাজী নজরুল সত্যিই যদি এমপি পদ হারান তবে উপনির্বাচনে হিরো আলম শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হন কি না?

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন