নব্বইয়ের দশকের বলিউড মানেই প্রেম, গান আর সুপারহিট রোমান্টিক সিনেমার জয়জয়কার। সেই সময় মুক্তি পাওয়া মিউজিক্যাল ব্লকবাস্টার ছবি ‘আশিকি’ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং একটি প্রজন্মের আবেগ।
এই ছবির মাধ্যমে রাতারাতি তারকাখ্যাতি অর্জন করেছিলেন অভিনেত্রী অনু আগারওয়াল। অল্প সময়েই বলিউডের আলোঝলমলে জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে ক্যারিয়ার যখন সাফল্যের শিখরে, তখনই এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা বদলে দেয় তার পুরো জীবন, এমনকি তার চেহারাও।
১৯৯৯ সালে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অনু আগারওয়াল। দুর্ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং টানা ২৯ দিন কোমায় ছিলেন। সে সময় তার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরাও অনেকটা আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরিবার ও ভক্তরা যখন তাকে হারানোর শঙ্কায় ভুগছিলেন, ঠিক তখনই অলৌকিকভাবে মৃত্যুকে জয় করে ফিরে আসেন এই অভিনেত্রী।
তবে জীবন ফিরে পেলেও আগের অনু আর ছিলেন না। দীর্ঘ কোমা ও গুরুতর আঘাতের প্রভাব পড়ে তার স্মৃতিশক্তি ও শারীরিক গঠনে। দুর্ঘটনার পর তার চেহারায় স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়, যা তাকে রুপালি পর্দায় ফিরতে বড় বাধার মুখে ফেলে। এক সময় যে মুখে দর্শক মুগ্ধ হতেন, সেই চেহারার পরিবর্তনই ধীরে ধীরে তাকে গ্ল্যামার জগত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় অনুকে। এই সময়েই তিনি উপলব্ধি করেন, জীবন শুধু খ্যাতি আর আলোঝলকানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে তিনি আত্মঅনুসন্ধানের পথে হাঁটেন। ধীরে ধীরে যোগব্যায়াম ও আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করেন তিনি, যা তাকে মানসিক শান্তি ও শারীরিক শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করে।
পরবর্তীতে অনু আগারওয়াল একজন দক্ষ যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। দীর্ঘ সময় বেঙ্গালুরুতে বসবাসকালে তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে যোগব্যায়াম শেখান। সমাজের জন্য কিছু করার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান জীবনের নতুন অর্থ। প্রায় তিন বছর আগে তিনি আবার মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন। যদিও সিনেমায় আর ফেরেননি, তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিংবা আলোকচিত্রীদের সামনে তাকে হাসিমুখে দেখা যায়।
১৯৯০ সালে মহেশ ভাট পরিচালিত ‘আশিকি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় অনু আগারওয়ালের। প্রথম ছবিতেই বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় তাকে। এরপর তিনি ‘গজব তামাশা’, ‘কিং আঙ্কল’ ও ‘রিটার্ন অব জুয়েল থিফ’-এর মতো কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নব্বইয়ের দশকে তার বাড়ির সামনে ভক্তদের ভিড় থাকত, যা তিনি বর্তমান সময়ের শাহরুখ খানের বাড়ির সামনে ভক্তসমাগমের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
আজ সেই উন্মাদনা আর নেই, নেই ক্যামেরার ঝলকানি। কিন্তু জীবন তাকে হার মানাতে পারেনি। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় চেহারা বদলে গেলেও মনোবল ও আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে নতুনভাবে জীবনকে আপন করে নিয়েছেন অনু আগারওয়াল। গ্ল্যামারের আলো থেকে দূরে থেকেও তিনি প্রমাণ করেছেন, জীবনের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার সাহসে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন