ঈদুল ফিতরের সিনেমাগুলো যখন সাফল্যের সাথে তৃতীয় সপ্তাহে পা রেখেছে, ঠিক তখনই সন্ধ্যার পর প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে ঢালিউডে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার পর বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বড় বড় মাল্টিপ্লেক্সগুলো তাদের সান্ধ্যকালীন প্রদর্শনী স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিনেমা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জনপ্রিয় সব সিনেমার নির্মাতা ও প্রযোজকরা। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন:
রেদওয়ান রনি ও শাহরিয়ার শাকিল (সিনেমা: ‘দম’)
তানিম নূর ও সাকিব আর খান (সিনেমা: ‘বনলতা এক্সপ্রেস’)
রায়হান রাফী (সিনেমা: ‘প্রেশার কুকার’)
শাহরিন আক্তার সুমি (সিনেমা: ‘রাক্ষস’)
শিরিন সুলতানা (সিনেমা: ‘প্রিন্স’)
নির্মাতা ও প্রযোজকদের মতে, ঈদের সিনেমার প্রাণ হলো সন্ধ্যার পরবর্তী শোগুলো। কর্মব্যস্ততা শেষে সাধারণ দর্শক মূলত রাত ৮টা বা ৯টার শো-তেই পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে আসেন। ৭টার মধ্যে হল বন্ধ হয়ে গেলে হলের সিংহভাগ দর্শক সিনেমা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন, যা লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার পথকে কঠিন করে তুলবে।
প্রযোজক ও পরিচালকরা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, অতীতেও বিশেষ পরিস্থিতিতে মার্কেট বন্ধ থাকলেও সিনেমা হলগুলোকে সেই নিয়মের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল। তারা দাবি জানান:
১. সিনেমা হলকে সাধারণ দোকানপাটের সংজ্ঞায় না ফেলে একে বিনোদন শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা।
২. শপিংমল বন্ধ হলেও হলের দর্শকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় রাত ১০টা বা শো শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রদর্শনী চালু রাখা।
সিনেমা ‘রাক্ষস’-এর নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয় এই সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “ঈদের সময়টা হলো সিনেমার জন্য ‘পিক আওয়ার’। কোটি কোটি টাকার লগ্নি করা হয় এই কয়েকটা দিনের ওপর ভরসা করে। সন্ধ্যার পরের দুটি শো বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে প্রযোজকদের বিশাল লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া। অন্তত মাল্টিপ্লেক্সগুলো যেন খোলা রাখা হয়, এটাই আমাদের দাবি।”
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দেশের এই সম্ভাবনাময় শিল্পের স্বার্থে সরকার দ্রুত বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ঈদের এই আনন্দময় পরিবেশকে বজায় রাখতে সহযোগিতা করবে।


