সেলুনের দেওয়ালে সাজানো ধারালো বেলচা, কাপড় ইস্ত্রি করার মেশিন (আয়রন), বড় বড় ঘাস কাটার কাঁচি আর রেঞ্জ। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এটি কোনো লোহা-লক্কড়ের দোকান। কিন্তু কেনিয়ার কিয়াম্বু এলাকার এই ঝুপড়িঘরে মানুষ ভিড় করছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে—চুল কাটাতে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপির (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সাফারি মার্টিন্স নামের এক তরুণ নাপিত এখন কেনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তি। তবে তার জনপ্রিয়তার কারণ প্রথাগত কাঁচি বা ট্রিমার (চুল কাটার মেশিন) নয়, বরং সাধারণ কৃষি সরঞ্জাম দিয়ে নিখুঁত হেয়ারকাট দেওয়ার অদ্ভুত দক্ষতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘চিফ সাফ্রো’ (Chief Safro) নামে পরিচিত।
অপ্রচলিত সরঞ্জামের জাদুকর মার্টিন্স গ্রাহক ইয়ান এনজেঙ্গার মাথায় ধারালো বেলচা চালিয়ে চুল কাটতে কাটতে বলেন, ‘আমি কেবল অপ্রচলিত সরঞ্জাম ব্যবহার করি।’
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বেলচা বা রেঞ্জ দিয়ে চুল কাটলেও গ্রাহকের মাথার ত্বকে কোনো ক্ষত হয় না, বরং পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত হেয়ারস্টাইল।
অপ্রচলিত এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করাই মার্টিন্সের কাজের প্রধান বিশেষত্ব, যিনি কেনিয়ার সবচেয়ে স্বীকৃত নাপিতদের একজন। তার ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটক অ্যাকাউন্টের প্রতিটিতে প্রায় ১০ লাখ করে ফলোয়ার রয়েছে, যেখানে তিনি ‘চিফ সাফ্রো’ নামে পরিচিত।
যখন তিনি বেলচা দিয়ে চুল কাটেন, তখন তার একজন সহযোগী পুরো বিষয়টি স্মার্টফোনে ভিডিও করেন। এই ভিডিওগুলোই তাকে রাতারাতি পরিচিতি এনে দিয়েছে। কেনিয়ায় বর্তমানে এই ধরনের ‘ইনফ্লুয়েন্সার বার্বার’ হওয়া একটি লাভজনক পেশা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সাফারি মার্টিন্সের জন্ম রুয়ান্ডায়, তবে বর্তমানে তিনি কেনিয়ার নাইরোবিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ২০১৮ সালে যখন তিনি উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র, তখন থেকেই বন্ধুদের চুল কাটতেন। শুরুতে ধার করা ট্রিমার ব্যবহার করলেও গত পাঁচ বছর ধরে তিনি প্রথাগত সরঞ্জাম ছেড়ে বেছে নিয়েছেন বেলচা বা কুড়ালের মতো অদ্ভুত সব অস্ত্র।
মার্টিন্সের মতে, কারিগর হিসেবে সাফল্যের পেছনে শুধু ভালো চুল কাটলেই এখন চলে না, মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করাটাও জরুরি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তার এই শিল্প এখন কেবল কেনিয়া নয়, সারা বিশ্বের মানুষের বিনোদনের খোরাক যোগাচ্ছে। একই সাথে সাধারণ একটি পেশাকে সৃজনশীলতার মাধ্যমে কীভাবে অনন্য উচ্চতায় নেওয়া যায়, তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
এপি থেকে হাসন মাহমুদ

