ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভোটের পর ফলাফল তৈরি হয় যেভাবে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
ছবিটি এআই দিয়ে বানানো।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। একসঙ্গে দুটি ভোট এবং প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের কারণে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণায় স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে- এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সাধারণত জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে এবার গণভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৪টার পরও যদি কোনো কেন্দ্রে ভোটার লাইনে থাকেন, তবে যতক্ষণ ভোটার উপস্থিত থাকবেন ততক্ষণ ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোটগ্রহণ শেষে কী হবে

ভোটগ্রহণ শেষ হলে প্রতিটি কক্ষের ব্যালট বাক্স প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের সামনে লক ও সিলগালা করা হবে। এরপর সেগুলো নির্ধারিত গণনা কক্ষে নেওয়া হবে। যদিও ভোটগ্রহণের সময় নারী ও পুরুষ ভোটারদের জন্য আলাদা কক্ষ ব্যবহৃত হয়, গণনার সময় সব ব্যালট এক কক্ষে একত্র করা হয়।

গণনার সময় প্রতিটি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার সুযোগ থাকবে। গণনা শুরুর আগে ব্যালট বাক্সের সংখ্যা ও লক সঠিক আছে কি না তা যাচাই করা হয়।

ব্যালট বাছাই ও গণনার ধাপ

গণনার শুরুতেই সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট এবং গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করা হবে। এরপর প্রতিটি ব্যালট পরীক্ষা করে দেখা হবে সেটিতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে কি না এবং সিল সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না। স্বাক্ষরবিহীন বা ভুলভাবে সিল দেওয়া ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে।

বৈধ ব্যালটগুলো প্রার্থীর প্রতীক অনুযায়ী আলাদা আলাদা বান্ডিল করে গণনা করা হবে। একই সঙ্গে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটও পৃথকভাবে গণনা করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি পোলিং এজেন্টদের সামনেই সম্পন্ন হবে।

কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল শিট

গণনা শেষে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একটি কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল শিট প্রস্তুত করা হবে। এতে মোট ভোট, বৈধ ও বাতিল ভোটের সংখ্যা এবং প্রতিটি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট অংকে ও কথায় লেখা থাকবে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এই শিটে কোনো কাঁটাছেঁড়া বা অস্পষ্টতা রাখা যাবে না।

চূড়ান্ত ফলাফল শিটে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপস্থিত পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। এর একটি কপি কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে এবং বাকি কপিগুলো সিলগালা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি

অনেক ভোটারের মনেই প্রশ্ন- ফলাফল কি পরিবর্তন করা সম্ভব? নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, কেন্দ্রেই পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ফল ঘোষণা এবং একই সঙ্গে কমিশনের সার্ভারে তথ্য পাঠানো হয় বলে ফলাফল পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।

তবে অতীতে কিছু নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- এমন নজিরও রয়েছে।

পোস্টাল ব্যালট ও চূড়ান্ত ফল

এবার প্রবাসী ভোটার এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া পোস্টাল ব্যালটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে গণনা করবেন। এরপর কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের ভোট যোগ করে সংশ্লিষ্ট আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।

কোনো প্রার্থী ফলাফলে অসন্তুষ্ট হলে পুনঃগণনার আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনে নির্বাচন শেষে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালেও মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক দিনে দুই ধরনের ভোট হওয়ায় গণনা ও ফল প্রকাশে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করা হলে ফলাফলে বড় ধরনের গরমিলের আশঙ্কা নেই। ভোটাররা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল থেকেই প্রাথমিক ধারণা পাবেন, যা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফলের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।