ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বোনাসের টাকা কাজে লাগানোর স্মার্ট পরিকল্পনা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

আনন্দোৎসব ঈদুল ফিতর আসন্ন। আর এ উৎসবকে গিরে সরকারি-বেসরকরি প্রায় সকল চাকরিজীবীদের আলোচনার একটি বিষয় হয়ে ওঠে বোনাস কত পাবেন—এ বোনাস নিয়ে শুরু হয় নানান হিসাব-নিকাশ। এককালীন এ আয়ের সঠিক ব্যবহারে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যেতে পারে। বোনাসের টাকা প্রয়োজনের তুলনায় কখনো কম, কখনো বেশি। এজন্য বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে।

বড় কেনাকাটার আগে ভাবুন

বোনাসের টাকা পেলে সঙ্গে সঙ্গে বড় কেনাকাটায় না গিয়ে আগে কিছুটা চিন্তা করুন। আসবাব কিনলে দাম যাচাই ও অফার মিলিয়ে নিন। এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলা উচিত।

আগে বাজেট ঠিক করুন

কতটা খরচ, কতটা সঞ্চয় শুরুতেই ভাগ করে রাখলে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এজন্য বোনাসের টাকার পুরো অঙ্ক লিখে রাখুন। আপনি যত শতাংশ টাকা জমিয়ে রাখবেন, বোনাস থেকে ওই পরিমাণ টাকা সরিয়ে রাখতে পারেন।

অগ্রাধিকারভিত্তিক খরচ

বোনাসের টাকা খরচের সময় অগ্রাধিকার ঠিক করুন। তাই ঈদের পোশাক বা উপহারের আগে আগে বকেয়া বিল, চিকিৎসা, শিক্ষা বা জরুরি প্রয়োজন মেটান। তাহলে আপনার চাপ কমবে।

নগদ খরচে সীমা ঠিক করুন

ঈদে ঘোরাঘুরি ও আপ্যায়নে একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিন। সীমা পেরোলেই খরচ থামান। 

সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন

বোনাস এককালীন আয় হওয়ায় পুরোটা খরচ করে ফেলা ঠিক নয়। বরং একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয়ের জন্য রেখে দেওয়া ভালো। সাধারণত বোনাসের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র বা অন্য নিরাপদ খাতে জমা রাখা উচিত। এতে ভবিষ্যতের জন্য একটি আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি হয়।

পরিবারের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিন

একক সিদ্ধান্তের বদলে পরিবারের চাহিদা শুনে পরিকল্পনা করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে। এতে পরিবারের কারও মন খারাপ হবে না। যৌথ সিদ্ধান্ত তুলনামূলক বেশি কার্যকর হয়। তাই বোনাসের টাকা কত পেলেন, তা দিয়ে কী করবেন, একা সিদ্ধান্ত নেবেন না।

ঋণ শোধে বোনাসের টাকা কাজে লাগান

ঋণ থাকলে তা পরিশোধে বোনাসের টাকা কাজে লাগাতে পারেন। কারণ, ক্রেডিট কার্ড বা ব্যক্তিগত ঋণের সুদ বেশি, তাই বোনাসের টাকা থেকে সেসব ঋণের আংশিকও পরিশোধ করেন। তাহলে তা লাভজনক হবে।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ভাবুন

শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন বা ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগ ভবিষ্যতে আয় বাড়াতে পারে। তাই বোনাসের টাকা থেকে কিছু অংশ এমন বিনিয়োগের জন্য ভাবতে পারেন।

খরচের হিসাব রাখুন

কোথায় কত খরচ হলো, লিখে রাখলে পরের বছর আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। যা বেহিসাবি হওয়া ঠেকায়।

জরুরি তহবিল গড়ুন

অপ্রত্যাশিত চিকিৎসা বা চাকরির ঝুঁকির জন্য আলাদা তহবিল করতে পারেন। বোনাসের টাকা আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কিছু টাকা রাখতে পারেন। এতে ভবিষ্যতের চাপ কমবে।