× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:২৬ এএম

আশীর্বাদ ও হুমকির দোলাচলে ভবিষ্যৎ; এআই কি তবে মানুষের মগজ গিলে খাচ্ছে?

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:২৬ এএম

এআই কি তবে মানুষের মগজ গিলে খাচ্ছে? ছবি : সংগৃহীত

এআই কি তবে মানুষের মগজ গিলে খাচ্ছে? ছবি : সংগৃহীত

সকালে কফি হাতে নিয়ে ল্যাপটপ খুলতেই দেখা গেল, একটি সফটওয়্যার মাত্র কয়েক সেকেন্ডে লিখে ফেলেছে চমৎকার একটি কবিতা। পাশের ট্যাবে অন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন মানুষের কল্পনাকেও হার মানানো ডিজিটাল আর্ট তৈরি করে দিচ্ছে মুহূর্তেই। এক সময় যা ছিল কেবল মানুষের মস্তিষ্কের একচেটিয়া অধিকার, আজ সেই ‘সৃজনশীলতা’র আঙিনায় ভাগ বসিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।  

কন্টেন্ট রাইটিং থেকে শুরু করে গ্রাফিক্স ডিজাইন—সৃজনশীলতার প্রায় প্রতিটি শাখায় এখন এআই-এর জয়জয়কার। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, প্রযুক্তি কি তবে মানুষের মৌলিক চিন্তাশক্তিকে গিলে ফেলছে? এটি কি সৃজনশীল কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার, নাকি কর্মসংস্থান হারানোর আগাম বার্তা?

সৃজনশীলতার নতুন কারিগর: এআই যখন সহযাত্রী
অনেকেই মনে করছেন এআই আসলে সৃজনশীল মানুষের কাজের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। আগে একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ইলাস্ট্রেশন করতে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, এখন এআই-এর সাহায্যে তার খসড়া তৈরি হচ্ছে নিমিষেই। অনেক লেখক এখন ‘রাইটার্স ব্লক’ বা নতুন আইডিয়া খুঁজে না পাওয়ার সমস্যায় এআই-কে ব্যবহার করছেন মগজ ঝালাইয়ের টুল হিসেবে।

এক্ষেত্রে এআই কোনো প্রতিযোগী নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ‘সহকারী’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে পারছেন, তারা এআই ব্যবহার করেই নিজেদের কাজের মান ও পরিমাণ, উভয়ই বাড়িয়ে নিচ্ছেন।

উদ্বেগ
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। স্থানীয় অনেক কন্টেন্ট রাইটার ও গ্রাফিক ডিজাইনারদের মধ্যে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন আতঙ্ক কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তরুণ লেখক বলেন, “আগে ছোটখাটো অনেক ব্লগের কাজ পেতাম, এখন ক্লায়েন্টরা বলে চ্যাটজিপিটি দিয়েই তো লিখে নেওয়া যায়, আপনাকে কেন দেব?” 

অন্যদিকে, ডিজিটাল শিল্পীদের দাবি—এআই যা তৈরি করে তা আসলে লাখ লাখ মানুষের আঁকা ছবি বা লেখার সংমিশ্রণ মাত্র। এখানে তথাকথিত ‘মৌলিকত্ব’ কতটুকু, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব নিয়েও জটিলতা বাড়ছে সমানতালে।

আশীর্বাদ নাকি হুমকি?
বিশ্লেষকদের মতে, এটি পুরোপুরি আশীর্বাদ বা পুরোপুরি হুমকি কোনটিই নয়।

কেন আশীর্বাদ: এটি জটিল ও একঘেয়ে কাজগুলোকে সহজ করে দিচ্ছে। ফলে একজন শিল্পী বা লেখক আরও বড় ক্যানভাসে চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছেন। এটি সৃজনশীলতাকে গণতান্ত্রিক করছে—যার ড্রয়িং সেন্স নেই, সেও এখন তার মনের কল্পনাকে এআই দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পারছে।

কেন হুমকি: সৃজনশীল কাজের আর্থিক মূল্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা এন্ট্রি-লেভেল বা শুরুর দিকের কর্মী, তাদের জন্য বাজার দখল করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

টিকে থাকার মূলমন্ত্র: মানুষের ছোঁয়া
প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, এআই-এর তৈরি কাজে এখনো একটি জিনিসের অভাব স্পষ্ট—তা হলো মানুষের ‘আবেগ’ ও ‘অভিজ্ঞতা’। এআই উপাত্ত (Data) বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের মতো সহানুভূতি বা সূক্ষ্ম অনুভূতি অনুভব করতে পারে না।

একজন সৃজনশীল কর্মীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি। এআই হয়তো হাজারটা লোগো বানিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একটি ব্র্যান্ডের পেছনের গল্প বা দর্শনের সাথে মানুষের যে সংযোগ, তা তৈরি করার সক্ষমতা এখনো সফটওয়্যারের আয়ত্তের বাইরে।

ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যখনই নতুন কোনো প্রযুক্তি এসেছে (যেমন: ক্যামেরা আসার পর পেইন্টিং বা কম্পিউটারের আবির্ভাবে হাতে লেখা টাইপিং), মানুষ প্রথম দিকে শঙ্কিত হলেও পরে তাকে আপন করে নিয়েছে। এআই-এর যুগেও বিজয় তারাই অর্জন করবে, যারা এআই-কে শত্রু না ভেবে একে নিজের সৃজনশীলতার ডানা হিসেবে ব্যবহার করতে শিখবে। শিল্পের রূপ বদলাবে ঠিকই, কিন্তু মানুষের হৃদয়ের গভীর থেকে আসা সৃজনশীলতা কখনোই গুরুত্বহীন হবে না।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!