× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে লন্ডনের ট্রাফালগার : বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত ‘এসো হে বৈশাখ’

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

নিউ ইয়র্ক থেকে লন্ডন বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত ‘এসো হে বৈশাখ’। ছবি : সংগৃহীত

নিউ ইয়র্ক থেকে লন্ডন বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত ‘এসো হে বৈশাখ’। ছবি : সংগৃহীত

ভৌগোলিক সীমারেখা মুছে দিয়ে পহেলা বৈশাখ এখন আর কেবল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই। সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে থাকা প্রবাসী বাঙালিদের হাত ধরে বাংলা নববর্ষ এখন একটি বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ঝলমলে আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে লন্ডনের ঐতিহাসিক ট্রাফালগার স্কয়ার-সবখানেই এখন প্রতিধ্বনিত হয় বৈশাখের চিরায়ত সুর। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের শেকড়কে তুলে ধরার এই এক অনন্য প্রচেষ্টা।

১. টাইমস স্কয়ারে বাঙালিয়ানা:

নিউ ইয়র্কের বর্ণিল আয়োজন বিশ্বের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে এখন নিয়মিতভাবে আয়োজিত হচ্ছে বৈশাখী উৎসব। হাজার হাজার প্রবাসী বাঙালি লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত হয়ে সেখানে সমবেত হন। আকাশচুম্বী বিলবোর্ডগুলোর নিচে যখন ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি বেজে ওঠে, তখন তা কেবল একটি গান থাকে না, হয়ে ওঠে বাঙালির অস্তিত্বের জানান। মঙ্গল শোভাযাত্রার আদলে তৈরি বিশাল প্রতিকৃতি আর দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের তালে সেখানে এক টুকরো বাংলাদেশ যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।

২. লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার:

মৈত্রীর বন্ধন লন্ডনের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র ট্রাফালগার স্কয়ারে প্রতি বছর আয়োজিত হয় বিশাল বৈশাখী মেলা। ব্রিটিশ বাঙালিদের এই আয়োজনে শামিল হন খোদ ব্রিটিশ নাগরিক ও পর্যটকরাও। এখানে পান্তা-ইলিশের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি থাকে লোকজ সংগীত ও নৃত্যের আসর। লন্ডনের মাল্টি-কালচারাল সমাজে বাঙালির এই অংশগ্রহণ আমাদের সাংস্কৃতিক শক্তিকে বিশ্বদরবারে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

৩. সিডনি থেকে টরন্টো:

অস্ট্রেলিয়া: সিডনির অপেরা হাউসের সামনে কিংবা অলিম্পিক পার্কে প্রবাসীরা আয়োজন করেন বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা। সেখানে স্থানীয় আদিবাসীদের সংস্কৃতির সাথে বাঙালির মৈত্রীর এক মেলবন্ধন দেখা যায়।

কানাডা: টরন্টো বা মন্ট্রিয়লের তীব্র শীত উপেক্ষা করেও প্রবাসীরা মেতে ওঠেন বৈশাখী আনন্দে। ইনডোর স্টেডিয়ামগুলোতে বসে বিশাল মেলা, যেখানে পাওয়া যায় মাটির পুতুল থেকে শুরু করে দেশীয় হস্তশিল্প।

৪. প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সেতুবন্ধন: 

প্রবাসে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের ভাষাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। প্রবাসে জন্ম নেওয়া অনেক শিশু-কিশোর এই উৎসবের মাধ্যমেই জানতে পারে পহেলা বৈশাখের ইতিহাস এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা। আলপনা আঁকা বা বৈশাখী গান শেখার মাধ্যমে তারা বিদেশের মাটিতেও নিজের পরিচয়কে খুঁজে পায়।

৫. বিশ্বমঞ্চে বৈশাখ: 

সাংস্কৃতিক কূটনীতি পহেলা বৈশাখের এই বিশ্বজনীন রূপকে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন ‘সাংস্কৃতিক কূটনীতি’ হিসেবে। এর মাধ্যমে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফুটে উঠছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার ইউনেস্কো স্বীকৃতি এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে, যা বৈশাখকে আন্তর্জাতিক উৎসবের মর্যাদায় আসীন করেছে।

পহেলা বৈশাখ এখন কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি বাঙালির ঐক্যের প্রতীক। সুদূর প্রবাসে যখন কোনো বিদেশি পর্যটক বাঙালির আলপনা দেখে মুগ্ধ হন কিংবা ঢোলের শব্দে পা মেলান, তখনই সার্থক হয় আমাদের এই ‘গ্লোবাল বৈশাখ’। শেকড় থেকে দূরে থাকলেও প্রবাসীরা প্রমাণ করেছেন-বাঙালি যেখানেই থাকুক না কেন, তার হৃদয়ে সব সময় অমলিন থাকে বৈশাখের রবি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!