ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিশ্ব শ্রমিক দিবস যেভাবে শুরু হয়েছিল

জুবায়ের দুখু
প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
বিশ্ব শ্রমিক দিবস। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অনেক দেশে আজ সরকারি ছুটি। কারণ আজ ১ মে—বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে শ্রমিক দিবস। বিশ্বের প্রায় ১৬০টিরও বেশি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। এই দিনটি শ্রমিক ও মজুরদের কঠোর পরিশ্রম এবং ত্যাগের স্বীকৃতি। মে দিবসকে সাধারণত অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগের শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস অন্বেষণ করতে এবং এই দিনটির সূচনা সম্পর্কে জানতে আমাদের এই প্রতিবেদন।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস কী?

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হলো একটি বিশেষ দিন, যা বিশ্বজুড়ে সকল শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানকে সম্মান ও স্বীকৃতি জানাতে উদযাপিত হয়। এই দিনটি আমাদের সমাজে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এটি শ্রমিকদের কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়—যেমন উন্নত কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং কম কর্মঘণ্টা—এসবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ১৮৮৯ সালের ১ মে উদযাপিত হয়। এর সূচনা ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে, যখন ১৮৮৬ সালের ১ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে প্রায় চার লাখ শ্রমিক একটি শান্তিপূর্ণ ধর্মঘটের আয়োজন করেন। তারা আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, এই ধর্মঘট সহিংস রূপ নেয় এবং পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিরস্ত্র শ্রমিক নিহত হন।

এই ঘটনাটি ‘হেমার্কেট অ্যাফেয়ার’ নামে পরিচিতি লাভ করে এবং শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে। এটি পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবেও কাজ করে। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক দল ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো শ্রমিকদের সংগঠিত করে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করে।

এই প্রতিবাদ ধীরে ধীরে শ্রমিক অধিকারের একটি বৈশ্বিক প্রতীকে পরিণত হয়। ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি লাভ করে। এর প্রভাবের ধারাবাহিকতায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৯২ সালে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আট ঘণ্টা কর্মদিবস আইনি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সাফল্য।

শ্রমিক দিবসের গুরুত্ব

শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানকে সম্মান জানাতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হয়। এটি শ্রমিকদের অধিকার এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য আচরণের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশ্বজুড়ে শ্রমিক সংগঠনগুলো এই দিনটিকে ব্যবহার করে কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরতে, ন্যায্য মজুরির দাবি জানাতে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে।

১৮৮৬ সালের ঐতিহাসিক শ্রমিক আন্দোলনের এত বছর পরেও আজও বিভিন্ন দেশ ও শিল্পখাতে শ্রমিকদের মধ্যে বৈষম্য বিদ্যমান। তাই বর্তমান সময়েও মে দিবস শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার, উন্নত কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য মজুরির দাবি জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে এই দিনটি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শ্রমিকদেরও কর্মক্ষেত্রে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।