শীত মৌসুমে টনসিলের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। শুরুতে ওষুধে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এই সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, টনসিলের ব্যথা কেন হয়, কীভাবে সংক্রমণ ছড়ায় এবং উপশমের উপায় জানা জরুরি।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, টনসিলাইটিস মূলত দুই ধরনের-অ্যাকিউট (তীব্র) ও ক্রনিক (দীর্ঘমেয়াদি)। গলার সংক্রমণ বা ব্যথা সময়মতো চিকিৎসা না নিলে তা মারাত্মক জটিলতার দিকে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, টনসিল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাক ও মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করা জীবাণুর বিরুদ্ধে এটি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মুখগহ্বরে থাকা লিঙ্গুয়াল, প্যালাটাইন, টিউবাল ও অ্যাডেনয়েড-এই চার ধরনের টনসিলের যেকোনো অংশে সংক্রমণ হলে টনসিলাইটিস দেখা দেয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে টনসিলের সংক্রমণ ভাইরাসজনিত। তবে স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া টনসিলাইটিস তুলনামূলক বেশি যন্ত্রণাদায়ক। এতে গলার তীব্র ব্যথা, জ্বর, কণ্ঠস্বর বসে যাওয়া এবং কথা বলতে অসুবিধা হতে পারে।
টনসিলের সংক্রমণ ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল-দুই ধরনেরই ছোঁয়াচে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, লালা বা থুতুর মাধ্যমে জীবাণু ছড়াতে পারে। একই পাত্রে খাবার খাওয়া, কাছাকাছি থাকা কিংবা চুম্বনের মাধ্যমেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এ কারণে টনসিলের সমস্যা দেখা দিলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে টনসিলের সমস্যা বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিন টনসিলাইটিস থাকলে টনসিলের টিস্যু শক্ত হয়ে যেতে পারে, যাকে ফাইব্রোসিস বলা হয়। এছাড়া স্লিপ অ্যাপনিয়া ও টনসিলার সেলুলাইটিসের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
টনসিলের উপশমে কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঠান্ডা পানি ও আইসক্রিম এড়িয়ে চলা, দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করে মুখ পরিষ্কার রাখা এবং কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলি করা উপকারী। জ্বর বা ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল গ্রহণ করা যেতে পারে। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলেও নিজে থেকে কোনো ওষুধ না খাওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এছাড়া রাতে গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করা, গ্রিন টি ও মধু দিয়ে তৈরি গরম পানীয় পান করলে আরাম পাওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে গলা ব্যথা বা টনসিলের সমস্যা শুরু হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


