স্ট্রোক যেকোনো বয়সে যে-কারো হতে পারে। যদিও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে কম বয়সিদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার কারণেই তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়েছে।
স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ। অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ থাকে না, ফলে মানুষ বিষয়টি বুঝতেই পারে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি মস্তিষ্কের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, কম লবণযুক্ত খাবার, শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।
ডায়াবেটিসও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। রক্তে অতিরিক্ত শর্করা জমে গেলে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতাও বেশি দেখা যায়, যা স্ট্রোকের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ এবং ব্লাড সুগার পরীক্ষা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমে গেলে তা ধমনীর ভেতরে প্লাক তৈরি করে। এর ফলে রক্তনালী সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এমন অবস্থা থাকলে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
হৃদরোগও স্ট্রোকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। করোনারি ধমনী রোগ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা হার্টের ভালভের সমস্যার কারণে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। এই জমাট রক্ত ভেঙে মস্তিষ্কে পৌঁছালে স্ট্রোক হতে পারে। তাই হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা স্ট্রোকের আরেকটি বড় ঝুঁকির কারণ। স্থূলতার কারণে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের সমস্যা দেখা দেয়, যা একসঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। সিগারেটের নিকোটিন রক্তচাপ বাড়ায় এবং রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধূমপানের ফলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ে, যা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের মাধ্যমে স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এমনকি পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শেও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবও স্ট্রোকের জন্য দায়ী। অতিরিক্ত লবণ, চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বাড়ায়। অন্যদিকে নিয়মিত ব্যায়াম হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী সুস্থ রাখে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
পরিবারে স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। জিনগত প্রভাবের পাশাপাশি একই ধরনের জীবনযাপনও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। তবে পারিবারিক ঝুঁকি থাকলেও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পর্যাপ্ত ঘুমও স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম না হলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। আবার অতিরিক্ত ঘুমও কখনো কখনো ক্ষতিকর হতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন