আল্লাহতায়ালা মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা ও নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণে বৈধ মিলনের জন্য বিয়ের বিধান দিয়েছেন। তবে অনেক নারী-পুরুষ রয়েছেন যারা বয়স ৩৫-৪০ পেরিয়ে গেলেও বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন না। কেউ কেউ আবার চিরকুমার থেকে যান। তবে আপনি জানলে চমকে যাবেন যে, বিয়ে না করা নারী-পুরুষরা ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত বিস্তৃত এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি, তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। ফলাফলে প্রায় সব প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের মধ্যে ঝুঁকির হার বেশি দেখা গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে ক্যানসার ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে। নারীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও বেশি, যা প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।
বিশেষ করে ধূমপান-সম্পর্কিত ও সংক্রমণজনিত ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। একইভাবে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিবাহিত জীবন অনেক সময় মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা করানোর প্রবণতা এতে ভূমিকা রাখতে পারে, যা পরোক্ষভাবে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে বিবাহ ক্যানসারের নিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা দেয়। বরং এটি সামাজিক ও আচরণগত কিছু প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পর্যবেক্ষণ মাত্র।
তারা আরও বলেন, অবিবাহিত ব্যক্তিদের উচিত স্বাস্থ্য বিষয়ে বাড়তি সচেতন থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং জীবনধারায় যত্নবান হওয়া।
গবেষণাটি ইঙ্গিত করছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সামাজিক জীবনধারা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

