ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ছোট ফ্ল্যাটেই রাজকীয় আবহ: ঘর বড় দেখানোর ৭টি গোপন কৌশল

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
সুসজ্জিত একটি ফ্ল্যাট। ছবি : সংগৃহীত

শহুরে জীবনে আকাশছোঁয়া ফ্ল্যাটের ভিড়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ছোট অ্যাপার্টমেন্ট বা স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টই এখন অনেকের ভরসা। কিন্তু আয়তনে ছোট হলেও ঘরটি যেন শ্বাসরুদ্ধকর মনে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কিছু স্মার্ট পরিকল্পনা আর সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় আপনার ছোট ফ্ল্যাটকেও দেখাবে বেশ বড় এবং খোলামেলা।

আপনার প্রিয় ঘরটিকে আরও প্রশস্ত দেখাতে আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা যে ৭টি সিক্রেটের কথা বলেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো:

১. রঙের জাদুকরী প্রভাব
ছোট ঘরের জন্য হালকা রঙের বিকল্প নেই। সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা নীল বা ক্রিম কালার দেওয়ালে ব্যবহার করলে তা আলো প্রতিফলিত করে ঘরকে উজ্জ্বল ও বড় দেখায়। ডার্ক কালার দেওয়ালকে কাছে টেনে আনে, ফলে ঘর আরও ছোট মনে হয়।

২. মাল্টি-ফাংশনাল ফার্নিচার: এক কাজে অনেক সমাধান
ছোট ফ্ল্যাটে আসবাবের সংখ্যা যত কম হবে, ঘর তত বড় দেখাবে। তাই বেছে নিন বহুমুখী আসবাব। যেমন—

সোফা কাম বেড: যা দিনের বেলা বসার জায়গা আর রাতে বিছানা হিসেবে কাজ করবে।

বক্স খাট: খাটের নিচের অংশকে স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

ফোল্ডিং টেবিল: ডাইনিং বা কাজের টেবিল হিসেবে ব্যবহার শেষে এটি দেওয়ালে ভাঁজ করে রাখা সম্ভব।

৩. আয়নার সঠিক ব্যবহার
ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ভাষায় আয়না হলো 'স্পেস মেকার'। জানালার বিপরীতে বা ঘরের বড় দেওয়ালে একটি বড় আয়না লাগালে তাতে পুরো ঘরের প্রতিবিম্ব তৈরি হয়, যা দৃষ্টিবিভ্রম ঘটিয়ে ঘরকে দ্বিগুণ বড় দেখায়।

৪. লেগড ফার্নিচার বা পায়ের ওপর দাঁড়ানো আসবাব
ভারী এবং মেঝেতে সরাসরি বসে থাকা আসবাবের বদলে পায়াওয়ালা আসবাব বেছে নিন। আসবাবের নিচ দিয়ে মেঝের অংশ দেখা গেলে ঘর অনেকটা হালকা এবং খোলামেলা মনে হয়।

৫. পর্দা ঝোলানোর স্মার্ট পদ্ধতি
জানালার ঠিক ওপর থেকে পর্দা না ঝুলিয়ে দেওয়ালের ওপরের অংশ (সিলিংয়ের কাছাকাছি) থেকে পর্দা ঝোলান। এতে ছাদ অনেক উঁচুতে মনে হয় এবং ঘর লম্বাটে দেখায়। পর্দার কাপড় হিসেবে নেট বা স্বচ্ছ ফেব্রিক বেছে নিলে বাইরের আলো সরাসরি ঘরে ঢুকতে পারবে।

৬. খাড়া বা ভার্টিকাল স্টোরেজ
ঘরের মেঝে খালি রাখতে দেওয়ালের ওপরের দিকের অংশ ব্যবহার করুন। ফ্লোর ক্যাবিনেটের বদলে দেওয়াল জুড়ে 'ফ্লোটিং শেলফ' লাগাতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় জিনিসও গোছানো থাকবে আবার হাঁটাচলার জায়গাও কমবে না।

৭. মিনিমালিজম বা ‘অল্পই সুন্দর’
ঘরের অন্দরে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড় কমান। যত বেশি শোপিস বা আসবাব থাকবে, ঘর তত অগোছালো ও ছোট মনে হবে। 'মিনিমালিস্ট' ধারণা অনুযায়ী শুধুমাত্র দরকারি জিনিসগুলো নান্দনিকভাবে সাজিয়ে রাখুন।

স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট সাজানোর ক্ষেত্রে আলোর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিলিংয়ের মাঝখানে একটি বড় আলোর বদলে ঘরের কোণগুলোতে ছোট ছোট ল্যাম্প বা স্পটলাইট ব্যবহার করলে ঘরে গভীরতা তৈরি হয়, যা ছোট জায়গাকে নান্দনিক ও প্রশস্ত করে তোলে।