ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সম্পর্কের বয়স বাড়লে কি স্বামী-স্ত্রীর চেহারাও এক হয়ে যায়?

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকা দম্পতিদের চেহারায় অদ্ভুত এক সাদৃশ্য তৈরি হওয়া কেবল লোককথা নয়, এর পেছনে রয়েছে বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞানের চমকপ্রদ ব্যাখ্যা। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবারে বেড়ে ওঠা দুজন মানুষের চেহারা সময়ের ব্যবধানে একই ধাঁচের হয়ে ওঠার কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

অবচেতন মনের আকর্ষণ 

গবেষণা বলছে, মানুষ প্রায়ই জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন কাউকে পছন্দ করে যার চেহারার গঠনে নিজের বা নিজের বাবা-মায়ের সাথে সূক্ষ্ম মিল রয়েছে। অর্থাৎ, অনেক দম্পতির চেহারায় মিল বিয়ের আগে থেকেই থাকে, যা সময়ের সাথে সাথে মানুষের চোখে ধরা পড়তে শুরু করে।

অভিন্ন আবেগের প্রতিফলন


স্বামী-স্ত্রী যখন বছরের পর বছর সুখে-দুঃখে পাশাপাশি থাকেন, তখন তারা একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। কোনো বিষয়ে আনন্দিত হওয়া বা হতাশ হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিক্রিয়া  প্রায় একই রকম হয়। হাসি বা কান্নার সময় একই ধরনের পেশি ব্যবহার হওয়ার ফলে দীর্ঘ সময় পর তাদের মুখের বলিরেখা (Wrinkles) এবং ভাঁজগুলোও প্রায় একই স্থানে এবং একই ঢঙে তৈরি হয়।

জীবনযাত্রার সমন্বয় 


একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে অভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। দম্পতিরা সাধারণত:

একই ধরনের খাবার গ্রহণ করেন।

একই সময়ে ঘুমান এবং ঘুম থেকে ওঠেন।

একই পরিবেশে বসবাস করার ফলে তাদের ত্বকের গঠন ও স্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশের প্রভাব (রোদ, আর্দ্রতা ইত্যাদি) একইভাবে পড়ে। এই খাদ্যাভ্যাস ও রুটিনের মিল তাদের শারীরিক গড়ন ও চেহারার উজ্জ্বলতাকে অনেকটা কাছাকাছি নিয়ে আসে।

সহানুভূতি ও অনুকরণ 

সুখী দম্পতিদের মধ্যে একে অপরের প্রতি গভীর সহানুভূতি থাকে। তারা অবচেতনভাবেই সঙ্গীর কথা বলার ধরন, হাসি বা অঙ্গভঙ্গি নকল করতে শুরু করেন। যখন দুজন মানুষের অঙ্গভঙ্গি ও ব্যক্তিত্বে মিল চলে আসে, তখন দর্শক হিসেবে অন্যদের কাছে তাদের চেহারাও প্রায় একই রকম মনে হতে থাকে।

মূলত শুরু থেকে থাকা প্রাকৃতিক মিল এবং কয়েক দশকের দীর্ঘ অভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মিলিত ফল হলো স্বামী-স্ত্রীর চেহারার এই চমৎকার সাদৃশ্য।