ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইফতারে মুড়ি : উপকারী না ক্ষতিকর?

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
মুড়িমাখা। ছবি- সংগৃহীত

ইফতারে ভাজা ছোলার সাথে মুড়ি যেন একটি অবিচ্ছেদ্য অনুসঙ্গ। অনেকের কাছে ইফতারি মানেই মুড়িমাখা। কিন্তু তেলে ভাজা ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপের সাথে মুড়ি খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর? 

চিকিৎসকদের মতে, একমুঠো মুড়ির গুণ একটি ওষুধের গুণের সমান! মুড়িতে থাকা পুষ্টিগুণ সারিয়ে ফেলতে পারে বিভিন্ন রোগ! এটি জনপ্রিয় ও স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত বা নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং অকারণে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।

মুড়ি খাওয়ার উপকারিতা

১. গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধান: চিকিৎসকদের মতে, মুড়ি খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেক কমে যায়। নিয়মিত মুড়ি খেলে পেটে অ্যাসিডের ক্ষরণে ভারসাম্য আসে। বাড়াবাড়ি রকমের অ্যাসিড হলে, মুড়ি পানিতে ভিজিয়ে খান অনেকে। তাতে দ্রুত অ্যাসিডের সমস্যা কমে।
২. হাড় মজবুত করে: মুড়িতে রয়েছে ক্যালসিয়াম আর আয়রন। এ ছাড়া মুড়ি চিবিয়ে খেতে হয়। এর ফলে দাঁত ও মাড়ির একটা ব্যায়াম হয়। তাই নিয়মিত মুড়ি খেলে হাড় ও দাঁত মজবুত হয়। 
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: মুড়িতে ক্যালোরির মাত্রা অত্যন্ত কম। অল্প ক্ষুদা পেলে মুড়ি খেলে পেট ভরে যায়। ক্যালোরির মাত্রা কম বলে মুড়ি খেলে ওজন বাড়ে না। যারা হালকা খাবার হিসেবে নিয়মিত মুড়ি খান, তাদের পক্ষে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ।
৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিদিন মুড়ি খেল নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে আপনার রক্তচাপও। এতে সোডিয়ামের মাত্রা কম। ফলে এটি খাওয়ার পরে পেট ভরলেও রক্তচাপ বাড়ে না।  এ ছাড়া যাদের পেটের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে মুড়ি বিশেষ উপকারী।

ডায়াবেটিস থাকলে কি মুড়ি খাওয়া যাবে?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য মুড়ি সবচেয়ে বেশি সতর্কতার বিষয়। কারণ, মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অত্যন্ত বেশি, যা রক্তে শর্করার হঠাৎ স্পাইক ঘটাতে পারে।

যদি খেতেই হয়—

  • একবারে আধা কাপের বেশি নয়
  • অবশ্যই সঙ্গে প্রোটিন (ডিম, পনির, দই) বা স্বাস্থ্যকর চর্বি (বাদাম, চিনাবাদাম)
  • খালি পেটে একেবারেই নয়

মুড়ি যেভাবে খেলে বেশি উপকার পাবেন

  • শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, ধনেপাতা মিশিয়ে খান
  • সেদ্ধ ছোলা বা বাদাম যোগ করলে প্রোটিন বাড়ে
  • অতিরিক্ত তেল, চাটনি বা ঝাল এড়িয়ে চলুন

মুড়িতে ক্যালরি ও চর্বি খুব কম। একই সঙ্গে ফাইবার ও প্রোটিনও সামান্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) খুব বেশি, প্রায় ১০৫। অর্থাৎ এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায়।

সতর্কতা: ছোলা যদি ডুবো তেলে ভাজা হয় বা অতিরিক্ত মসলা দিয়ে ভুনা করা হয়, তবে তা অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া এবং বদহজমের কারণ হতে পারে। খালি পেটে দীর্ঘক্ষণ থাকার পর এমন তৈলাক্ত খাবার পাকস্থলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।