ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস আজ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস আজ। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২৫ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ম্যালেরিয়া নির্মূলে বদ্ধপরিকর: এখনই আমরা পারি, এখনই আমাদের করতে হবে’।

২০০১ সালের ২৫ এপ্রিল দিবসটি প্রথম পালন করা হয় আফ্রিকায়। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির ৬০তম অধিবেশনে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের প্রস্তাবনা করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দেশে ম্যালেরিয়ার জীবাণুতে জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ পরিবর্তনের ফলে শরীরে জীবাণু থাকলেও প্রচলিত পরীক্ষায় তা ধরা পড়ছে না। এমন পরিস্থিতিতে রোগ শনাক্তে নতুন কিট ব্যবহার শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। যদিও এ কিটের কার্যকারিতা দুই বছর ধরে পরীক্ষা করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাঙামাটিতে ম্যালেরিয়ার সব লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও দুই রোগীর পরীক্ষার ফল বারবার নেগেটিভ আসে। পরে ওই এলাকার ২০টি নমুনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ল্যাবে পাঠানো হলে জীবাণুর জিনগত পরিবর্তন নিশ্চিত হয়। এর পরই শনাক্তকরণ কিট পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ম্যালেরিয়ার ওষুধ-প্রতিরোধী ধরন শনাক্তে একটি নজরদারি গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ।

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিবছর মে মাস থেকে আগস্ট মাসে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক বেশি থাকে। উচ্চ ম্যালেরিয়াপ্রবণ তিন জেলা (বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার) মোট রোগীর ৯৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এর বাইরে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্ত রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সংক্রমণ বেশি হচ্ছে জুম চাষি, কাঠুরিয়া, কয়লা শ্রমিক ও শরণার্থীদের। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা ম্যালেরিয়া নির্মূলে চারটি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন। তারা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে সংক্রমণ নিয়ে দেশে প্রবেশ করা, সীমান্তে যথাযথ শনাক্ত ও নজরদারির ঘাটতি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সমন্বিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অভাব এবং কীটতাত্ত্বিক নজরদারি ও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দুর্বলতা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।