ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস নির্বাচন করাটা অনেকটা ব্যালেন্সিং অ্যাক্টের মতো। বিশেষ করে ফলের ক্ষেত্রে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে, আস্ত ফল খাওয়া ভালো নাকি ফলের রস?
ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় কার্বোহাইড্রেট এবং শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, ফলের রসের তুলনায় আস্ত বা পুরো ফল খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ এবং উপকারী।
১. ফাইবার বা আঁশের ভূমিকা
পুরো ফল: এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ফাইবার থাকে। ফাইবার রক্তে চিনির শোষণকে ধীর করে দেয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar) হঠাৎ করে বেড়ে যায় না।
ফলের রস: রস করার সময় ফলের আঁশ ছেঁকে ফেলে দেওয়া হয়। ফলে এটি খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় (Spike)।
২. গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI)
ফলের রসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স আস্ত ফলের তুলনায় অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, একটি আস্ত কমলার চেয়ে এক গ্লাস কমলার রস রক্তে দ্রুত চিনি ছড়ায়। উচ্চ GI খাবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
৩. ক্যালরি ও শর্করার ঘনত্ব
এক গ্লাস রস তৈরি করতে সাধারণত ৩-৪টি ফলের প্রয়োজন হয়। এর মানে হলো, আপনি এক বসাতেই কয়েকগুণ বেশি চিনি এবং ক্যালরি গ্রহণ করছেন, যা ওজন বৃদ্ধি এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণ হতে পারে।
৪. তৃপ্তি ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ
আস্ত ফল চিবিয়ে খেতে হয়, যা মস্তিষ্কে পূর্ণতার সংকেত পাঠায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ফলের রস দ্রুত পান করা যায় এবং এটি ক্ষুধা মেটাতে কার্যকর নয়।
সতর্কতা: প্যাকেটজাত ফলের রস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একেবারেই নিষিদ্ধ হওয়া উচিত, কারণ এতে অতিরিক্ত চিনি এবং প্রিজারভেটিভ থাকে।
আপনি যদি ফল খেতে চান, তবে টক জাতীয় ফল (যেমন: জাম্বুরা, আমলকী, পেয়ারা, কামরাঙা) বেছে নিন। ফল খাওয়ার সেরা সময় হলো সকালের নাস্তা বা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে। খাবারের সাথে সাথে ফল না খাওয়াই ভালো।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন