ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

সুপারফুড শজনে ডাঁটা ও পাতায় লুকিয়ে আছে সুস্থতার জাদুকরী শক্তি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:১০ এএম
সুপারফুড শজনে ডাঁটা ও পাতা। ছবি : সংগৃহীত

প্রকৃতির এক অনন্য দান শজনে। এক সময় কেবল মৌসুমি সবজি হিসেবে ডাটার কদর থাকলেও, এখন সারা বিশ্বে শজনে পাতা ও ডাটা পরিচিতি পেয়েছে ‘সুপারফুড’ হিসেবে। পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরকে সতেজ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শজনের তুলনা মেলা ভার। সাধারণ এই সবজিটিতে লুকিয়ে আছে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিস্ময়কর সব পুষ্টিগুণ।

শজনে পাতাকে কেন ‘সুপারফুড’ বলা হয়?
গবেষণায় দেখা গেছে, শজনে পাতায় কমলালেবুর চেয়ে সাত গুণ বেশি ভিটামিন-সি, গাজরের চেয়ে চার গুণ বেশি ভিটামিন-এ এবং দুধের চেয়ে চার গুণ বেশি ক্যালসিয়াম রয়েছে। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম ও প্রোটিন।

শজনে পাতার উল্লেখযোগ্য উপকারিতা:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: উচ্চ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ: এতে প্রচুর আয়রন থাকায় রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীদের জন্য এটি মহৌষধ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শজনে পাতার গুঁড়ো বা চা বেশ কার্যকর।

হাড়ের সুরক্ষা: প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকায় এটি হাড় ও দাঁত মজবুত করে।

শজনে ডাটার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
ভোজনরসিক বাঙালিদের কাছে শজনে ডাটার চচ্চড়ি বা ডাল খুবই জনপ্রিয়। তবে স্বাদের পাশাপাশি এর ওষুধি গুণও অপরিসীম।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: শজনে ডাটায় থাকা বিশেষ কিছু উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি: এটি ফাইবার বা আঁশযুক্ত হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।

লিভার ও কিডনির সুরক্ষা: শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে লিভার ও কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে শজনে।

বসন্ত রোগ প্রতিরোধ: ঋতু পরিবর্তনের সময় জলবসন্ত বা পক্স প্রতিরোধে প্রথাগতভাবেই শজনে ডাটা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ব্যবহারবিধি
শজনে ডাটা সাধারণত তরকারি বা ডালের সাথে খাওয়া হয়। অন্যদিকে, শজনে পাতা শাক হিসেবে ভাজি করে কিংবা শুকিয়ে গুঁড়ো করে স্মুদি, স্যুপ বা চায়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে শজনে পাতার গুঁড়ো বা ‘মোরিঙ্গা পাউডার’ সাপ্লিমেন্ট হিসেবেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, “প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অল্প পরিমাণে হলেও শজনে রাখা উচিত। বিশেষ করে শিশু ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টির অভাব পূরণে এটি দারুণ কাজ করে। তবে যেকোনো কিছু অতিরিক্ত খাওয়ার আগে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন।”

প্রকৃতির এই সহজলভ্য সুপারফুডকে অবহেলা না করে নিয়মিত গ্রহণ করলে অনেক জটিল রোগ থেকেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।