× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

প্রতিশ্রুতি ভেঙে এনইআইআর চালুতে মোবাইল বিক্রি বন্ধ, বিটিআরসি কার্যালয়ে উত্তেজনা

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন না করেই ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর)’ চালুতে দেশজুড়ে দোকান বন্ধ রেখে মোবাইল ফোন বিক্রি বন্ধ কর্মসূচি পালন করছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানের সাক্ষাতের আহ্বান ফিরিয়ে দিলে কমিশনের কার্যালয় জুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় ভবনের বাইরে অপেক্ষমান ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বিটিআরসি কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসির সাথে দফায় দফায় বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে এনইআইআর ব্যবস্থায় যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন না করেই এটি চালু করা হচ্ছে। বিষয়টিকে সিন্ডিকেটের স্বার্থে সাধারণ ব্যবসায়ী এবং জনগণের সাথে এই সরকারের প্রতারণা বলে আখ্যায়িত করছেন তারা। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগেরও দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এমবিসিবি।

গত ২৯ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আকস্মিকভাবে দেশে এনইআইআর চালুর ঘোষণা দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তখন থেকেই সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের স্বার্থে তাদের জন্য প্রস্তাবিত এনইআইআর ব্যবস্থায় কোন সুরক্ষা রাখা হয়নি। এরপর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মানববন্ধন এবং বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো কয়েক দফা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে সক্ষম হন ব্যবসায়ীরা।

পৃথক দুইটি বৈঠকে বিটিআরসি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট কিছু দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসি পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেগুলো প্রচারও করেছিল। এসব আলোচনার প্রেক্ষিতে গত ১৬ ডিসেম্বরের পরিবর্তে আজ ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর চালুর ঘোষণা দেয় বিটিআরসি।

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের স্বার্থে প্রতিশ্রুতি সংস্কার না করেই এনইআইআর চালু করা হচ্ছে। এই অভিযোগে দেশজুড়ে দোকান বন্ধ রেখে মোবাইল ফোন বিক্রি কার্যক্রম স্থগিত রাখার ডাক দেয় মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি অব বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।

সকাল থেকে রাজধানীর বৃহৎ দুই বিপণীবিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স এবং যমুনা ফিউচার পার্কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোবাইল বিক্রির দোকানগুলো বন্ধ আছে। এখানকার কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং দোকানের কর্মীরা জানান, সংগঠনের ডাকা কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে তারা দোকান বন্ধ রাখছেন। 

অন্যদিকে প্রতিশ্রুতি সংস্কার না করেই এনইআইআর চালুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) এমদাদ উল বারীর সাথে আলোচনা করতে কমিশন কার্যালয়ে যান এমবিসিবির একটি প্রতিনিধি দল।

এসময় কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন প্রায় দুই শতাধিক সাধারণ ব্যবসায়ী। তবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান সাক্ষাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এই খবর বাইরে অবস্থানরত ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছালে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এসময় অর্ধ শতাধিক ব্যবসায়ী সড়ক থেকেই বিটিআরসি ভবন লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ভবনের বেশ কয়েকটি কাঁচ ভেঙ্গে যায়। তবে এমবিসিবি নেতাদের দ্রুতই বিটিআরসি কার্যালয়ের বাইরে এসে ব্যবসায়ীদের শান্ত করার উদ্যোগ নিতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে এমবিসিবির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত ১০ ডিসেম্বরে সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, এনইআইআর চালু হলেও আমাদেরকে তিন মাসের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়া হবে। এই সময়ে দেশের নেটওয়ার্কে আসা কোন মোবাইল ফোনই বন্ধ হবে না বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। আর সাধারণ ব্যবসায়ীরা অবাধে ডিভাইস আমদানি করতে পারবে এবং ভবিষ্যতেও মোবাইল আমদানিতে কোন সিন্ডিকেটের অনুমতি নিতে হবে না। সেই বৈঠকে বিটিআরসির প্রতিনিধিও ছিলেন। বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমেও প্রচার করেন তারা। কিন্তু বিটিআরসি প্রতিশ্রুতি এসব বিষয় বাস্তবায়ন না করেই এনইআইআর চালু করছে। এজন্যই দোকান বন্ধ রেখে মোবাইল ফোন বিক্রি স্থগিত রাখছি।’

বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুরের বিষয়ে পিয়াস বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করতে চাইলে উনি আমাদের সাথে নূন্যতম সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি। বিষয়টি বাইরে অপেক্ষমান ব্যবসায়ীরা জানতে পারলে তারা সাময়িকভাবে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং কয়েকজন ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় ভবনের ভেতরে থাকায় আমরাও আহত হই। তবে দ্রুতই এমবিসিবি নেতৃবৃন্দ বাইরে বের হয়ে ব্যবসায়ীদের শান্ত করি।’

এনইআইআর চালু, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ এবং ভবন ভাঙচুরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিটিআরসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Link copied!