মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ আলোকবর্ষ দূরে ‘জিজে ৩৩৭৮বি’-নামের একটি পাথুরে গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে।
টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাকডোনাল্ড পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে হবি–এবারলি টেলিস্কোপের সাহায্যে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্রহটিকে প্রাণের বসবাসের জন্য সম্ভাব্য উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মহাজাগতিক বিস্তারের তুলনায় ২৫ আলোকবর্ষ দূরত্বকে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত নিকটবর্তী হিসেবে বিবেচনা করছেন। কারণ, আকাশগঙ্গা ছায়াপথের বিস্তৃতি প্রায় এক লক্ষ আলোকবর্ষ হওয়ায় এই দূরত্বকে ‘মহাজাগতিক প্রতিবেশী’ হিসেবেই ধরা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী পল রবার্টসনের মতে, এই নৈকট্যই গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে গবেষকদের আরও আশাবাদী করে তুলেছে।
প্রাথমিক গবেষণায় গ্রহটির ভর পৃথিবীর প্রায় পাঁচ গুণ বলে ধারণা করা হলেও, আধুনিক পর্যবেক্ষণে তা পৃথিবীর প্রায় ২.৩ গুণ বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, জিজে ৩৩৭৮বি একটি পাথুরে গ্রহ বা ‘সুপার আর্থ’। এটি একটি লাল বামন নক্ষত্রকে প্রায় ২১ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে।
গ্রহটি বাসযোগ্য কি না, তা যাচাইয়ের প্রধান শর্ত হিসেবে সেখানে পানি বা তরল পদার্থের উপস্থিতি খুঁজে দেখছেন গবেষকরা।
যদিও গ্রহটির বায়ুমণ্ডল নিয়ে বিজ্ঞানীদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবুও এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গবেষক মাইকেল এন্ডলের ভাষায়, আমাদের ছায়াপথের প্রায় ৭০ শতাংশ নক্ষত্রই লাল বামন, যাদের চারপাশে থাকা পাথুরে গ্রহগুলোতে প্রাণের সন্ধান করাই বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তবে বর্তমান প্রযুক্তিতে কোনো মহাকাশযানের পক্ষে এই দূরত্ব অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব। মানুষের তৈরি সবচেয়ে দ্রুতগতির যান ‘ভয়েজার-১’-এর গতিতে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ৪ লাখ ৪১ হাজার বছর সময় লাগবে।
তবুও এই দূরত্বকে বিজ্ঞানীরা প্রাণের সন্ধানে একটি নতুন আশার আলো হিসেবে দেখছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন