× UCB Sticker Card
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

হরমুজে সাবমেরিন কেবল নিয়ে কতটা ঝুঁকিতে ইন্টারনেট

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সমুদ্রতলের সাবমেরিন ফাইবার অপটিক কেবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট, ক্লাউড সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে একটি বা দুটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরো বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী শুধু বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়ে এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপকে সংযুক্ত করা একাধিক সাবমেরিন কেবল গেছে।

সাবমেরিন কেবল হলো সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত ফাইবার অপটিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বের আন্তর্জাতিক ডেটা আদান-প্রদানের ৯৯ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়। ইন্টারনেট, ই-মেইল, ভিডিও স্ট্রিমিং, ক্লাউড সেবা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনসহ প্রায় সব বৈশ্বিক ডিজিটাল যোগাযোগই এসব কেবলের ওপর নির্ভরশীল।

হরমুজ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কেবলগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপ ওয়ান (AAE-1), ফ্যালকন নেটওয়ার্ক এবং গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল (GBI) কেবল সিস্টেম। এসব কেবল ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উপসাগরীয় দেশ ও ইউরোপের মধ্যে দ্রুতগতির তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরাসরি হামলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের নোঙর বা সমুদ্রে ভেসে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণেও কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ২০২৪ সালে লোহিত সাগরে এমন একটি ঘটনায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজের নোঙরের আঘাতে কয়েকটি সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক কেবল সুরক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বেশিরভাগই ঘটে জাহাজের নোঙর, মাছ ধরার ট্রলার কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে এবং কিছু ডিজিটাল সেবায় বিলম্ব দেখা দিতে পারে। তবে বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে একাধিক বিকল্প রুট থাকায় ট্রাফিক অন্য পথে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এদিকে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কেবল মেরামত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মেরামত কাজ বিলম্বিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংকের মতো নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট ব্যবস্থা কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক ডেটা পরিবহনের জন্য এখনো সাবমেরিন কেবলের কার্যকর বিকল্প নয়। তাই বৈশ্বিক ইন্টারনেট অবকাঠামোর প্রধান ভিত্তি হিসেবেই সমুদ্রতলের এসব কেবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

Link copied!