বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে একটি অনলাইন আবেদনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আবেদনটির উদ্যোক্তাদের দাবি, এতে ইতোমধ্যে ৯০ লাখের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কোনো মন্তব্য করেনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে রেফারিদের সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দলটিকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পাঁচটি দলকে হারিয়েছে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নকআউট পর্বে মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিয়েও কিছু মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রেফারিদের সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসির একটি কঠোর ফাউলের পরও তাকে কার্ড না দেখানো নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ArgentinaOut.com নামে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচারণায় বলা হয়েছে, রেফারিরা আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, যদি বিজয়ী আগেই নির্ধারিত থাকে, তাহলে অন্য দলগুলোর প্রতিযোগিতার সুযোগ অর্থহীন হয়ে পড়ে।
প্রচারকারীদের দাবি অনুযায়ী, এই দাবির পক্ষে ইতোমধ্যে ৯০ লাখের বেশি মানুষ অনলাইনে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে এই সংখ্যার সত্যতা বা আবেদনটির আনুষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
এদিকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও আরও তীব্র করে তুলেছে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের পর থেকে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রায় চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
তবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে ভাইরাল হওয়া এই অনলাইন আবেদনের কোনো আইনি বা আনুষ্ঠানিক কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফিফাও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করেনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন