ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইকুইপমেন্ট রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পেলেন সাধারণ মোবাইল ব্যবসায়ীরা। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এনইআইআর পুনর্বিবেচনা করা হবে এমন আশ্বাস পেয়েছেন তারা।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেওয়া হয়। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)–এর যমুনা শাখা ও চট্টগ্রাম মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির চারজন প্রতিনিধি এই সাক্ষাতে অংশ নেন।
এনইআইআর সংস্কারের দাবিতে প্রায় আড়াই মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে এমবিসিবি। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং দোকান বন্ধ রেখে মোবাইল বিক্রি স্থগিত রাখা। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে ব্যবসায়ীরা পরিবার-পরিজনসহ ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় কার্যালয়ে প্রবেশের মুহূর্তে বিষয়টি নজরে এলে তারেক রহমান গাড়ি থেকে নেমে তাদের কথা শোনেন। পরে তিনি চারজন প্রতিনিধিকে কার্যালয়ের ভেতরে ডেকে বৈঠক করেন।
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া চার প্রতিনিধি হলেন: এমবিসিবির কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান, এমবিসিবি যমুনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুবেল এবং যমুনা ফিউচার পার্কের মোবাইল বিক্রেতা মাসুদুর রানা।
বৈঠক শেষে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে আরিফুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি, কিন্তু এই জালিম সরকার কোনো কর্ণপাত করেনি। এমনকি সব ডিভাইস তিন মাসের মধ্যে (১৫ মার্চ পর্যন্ত) স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা ভঙ্গ করা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের আগামী অধিনায়ক তারেক রহমানই আমাদের কাছে শেষ ভরসা ছিলেন। আজ আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে তার কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলাম, কারণ সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হলে এই পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আমাদের এই অবস্থান তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি চারজন প্রতিনিধিকে ভেতরে ডেকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান।’
সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর বৈঠক শুরু হয় জানিয়ে আরিফুর রহমান আরও বলেন, ‘বৈঠকে তারেক রহমান আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আমরা বেশ কয়েকটি বিষয় নথি আকারে সঙ্গে নিয়েছিলাম। সেগুলো তিনি গ্রহণ করেছেন এবং সেগুলো বিশ্লেষণের দায়িত্ব তার একজন প্রতিনিধিকে দিয়েছেন। আমরা আশা করছি, নথিগুলো বিশ্লেষণ করলে তিনি এনইআইআরের জটিলতা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন এবং কেন আমরা রুজি-রুটির দাবিতে সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছি, তা বুঝবেন। প্রাথমিক আলোচনার ভিত্তিতে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে, ক্ষমতায় গেলে এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তার ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। তার দেওয়া আশ্বাসে আমরা সন্তুষ্ট।’
বৈঠকের সব বিষয় এমবিসিবির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দেশজুড়ে থাকা সাধারণ মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান আরিফুর রহমান।
উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি থেকে তারা সারা দেশে দোকান বন্ধ রেখে মোবাইল ফোন বিক্রি স্থগিত রাখা ছাড়াও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন