ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নিছক বিনোদন নয়, ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত ‘গেম-ইকোনমি’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত ‘গেম-ইকোনমি’ ছবি: সংগৃহীত

একটা সময় ছিল যখন ভিডিও গেম মানেই ছিল পড়ার টেবিল থেকে পালানো কিশোরের অবসরের সঙ্গী। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই চিত্র এখন আমূল বদলে গেছে। বর্তমান বিশ্বে ভিডিও গেম আর কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বৈশ্বিক ইন্ডাস্ট্রি। ই-স্পোর্টস এবং গেম ডেভেলপমেন্টের হাত ধরে তরুণ প্রজন্মের সামনে উন্মোচিত হয়েছে এক মাল্টি-বিলিয়ন ডলার ক্যারিয়ারের দুয়ার।

ই-স্পোর্টস: খেলার মাঠ যখন স্মার্টফোনের স্ক্রিন
বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবল বা ক্রিকেটের মতোই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ই-স্পোর্টস বা ইলেকট্রনিক স্পোর্টস। পাবজি (PUBG), ফ্রি-ফায়ার (Free Fire) কিংবা ভ্যালোর্যান্ট-এর মতো গেমগুলোর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এখন কোটি কোটি টাকার প্রাইজমানি থাকছে।

বাংলাদেশের তরুণরাও এখন আর পিছিয়ে নেই। দেশীয় বিভিন্ন গেমিং টিম এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে। একজন দক্ষ ই-স্পোর্টস প্লেয়ার কেবল টুর্নামেন্ট জিতেই নয়, বরং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্পন্সরশিপ এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকেও মাসে মোটা অংকের অর্থ উপার্জন করছেন। এটি এখন আর ‘সময় নষ্ট’ নয়, বরং একটি স্বীকৃত বৈশ্বিক পেশা।

গেম ডেভেলপমেন্ট: পর্দার পেছনের কারিগর
গেম খেলার চেয়েও বড় বাজার এখন গেম তৈরির। গেম ডেভেলপমেন্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন, থ্রিডি অ্যানিমেশন এবং স্টোরি রাইটিংয়ে দক্ষ হয়ে তরুণরা যুক্ত হচ্ছে গেম ডেভেলপমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে। বিশ্বের নামী-দামী কোম্পানিগুলোতে বাংলাদেশের তরুণরা রিমোটলি কাজ করছে। এছাড়াও দেশে গড়ে উঠছে অনেক ছোট-বড় গেম স্টুডিও, যারা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য গেম তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।

রেমিট্যান্সের নতুন উৎস: গেমিং ইন্ডাস্ট্রি
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচাইতে আশার কথা হলো ‘গেম-ইকোনমি’ থেকে আসা রেমিট্যান্স। একজন গেমার যখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেন কিংবা একজন ডেভেলপার যখন বিদেশের কোনো কোম্পানির হয়ে কাজ করেন, তখন সেই অর্থ সরাসরি দেশে আসছে।

গ্লোবাল মার্কেট: বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গেমিং মার্কেটের আকার সিনেমা ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সম্মিলিত আকারের চেয়েও বড়।

ফ্রিল্যান্সিং সুযোগ: আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো প্ল্যাটফর্মে গেম টেস্টিং এবং কোডিংয়ের চাহিদা এখন তুঙ্গে।

বিদেশে কর্মসংস্থান: দক্ষ গেম ডেভেলপারদের জন্য ইউরোপ ও আমেরিকায় উচ্চবেতনে চাকরির বিশাল সুযোগ রয়েছে।

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
সম্ভাবনা অনেক থাকলেও কিছু প্রতিবন্ধকতা এখনো রয়ে গেছে। উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের অভাব এবং প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার আমদানিতে উচ্চ শুল্ক অনেক মেধাবী তরুণকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া সামাজিকভাবেও গেম খেলাকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গেমারদের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ব্যবস্থা করা যায়, তবে আইটি সেক্টরের পর গেমিং ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত।

এক নজরে গেম-ইকোনমি:

বৈশ্বিক বাজার: ২০২৬ সাল নাগাদ গেমিং ইন্ডাস্ট্রির আয় ৩০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস।

ক্যারিয়ার: গেম ডেভেলপার, ই-স্পোর্টস অ্যাথলেট, গেম স্ট্রিমার, গ্রাফিক ডিজাইনার।

আর্থিক লক্ষ্য: সঠিক পলিসি থাকলে এ খাত থেকে বছরে শতকোটি টাকার রেমিট্যান্স আয় সম্ভব।