জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এতে সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপি উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দিনসহ ২৬ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ২১ জানুয়ারি এ মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এই মামলায় আনুষ্ঠানিক দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সহযোগিতার পাশাপাশি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। সে সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সতীর্থ আন্দোলনকারীরা তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই দিন উত্তরা এলাকায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া সেদিন উত্তরায় এপিসির (সাঁজোয়া যান) পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যা করা হয়।
দুই নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন