চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করে। এর আগে ১১ জানুয়ারি আদালত পুলিশকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামসুজ্জোহা সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল গুপ্ত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অঙ্গসংগঠনটির নেতাকর্মী হিসেবে মো. সরওয়ার, নাজিমুদ্দিন, রাসেল, মহসীন, জাহেদ, আলমগীর, নঈমুল ইসলাম, পাভেল বড়ুয়া, মো. জাহেদ, ইকবাল হোসেন, নাহিম, এনামুল হক, রাসেল, সাইফুল, মাহাবুব, আনোয়ার, নেসার উল্লাহ, বেলাল, মুজাহিদ, বাপ্পা ও মো. হারুনসহ মোট ২৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এনামুল হক জানান, প্রথম দফায় তদন্তে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। পরে আদালতের নির্দেশে পুনরায় তদন্ত করা হয় এবং নতুন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৮ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ১১৫ জন নিহত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল রাঙামাটির উদ্দেশে যাত্রা করছিল। পথে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকায় তাদের গাড়িবহরে রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
হামলায় মির্জা ফখরুল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমানসহ কয়েকজন আহত হন। হামলার পর প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রামে ফিরে আসে।
ঘটনার পর বিএনপি রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে দায়ী করলেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। ২০১৭ সালের ২১ জুন চট্টগ্রাম আদালতে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন