ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইউনিক গ্রুপ ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
নূর আলী। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বনানীতে ডিএনসিসি নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে ‘বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং’ প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নূর আলী এবং তার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনুমোদনহীন ওই ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা মানিলন্ডারিং করেছেন বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ নূর আলী ও তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা (মামলা নং-১১, তারিখ: ০৭/০৫/২০২৬ খ্রি.) দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় রুজু করা হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বনানী এলাকায় ১৪ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরবর্তীতে সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-কে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানো হয়।

এছাড়া, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) গ্রহণ করা হয়নি। এতে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুমোদনহীন ওই ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে উল্লিখিত অর্থ আয় করেন এবং পরে তা বিভিন্নভাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে বেদখলকৃত সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর লন্ডারকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।