× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

চিনি বনাম গুড়: মিষ্টির আড়ালে শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর?

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

মিষ্টির আড়ালে শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর? ছবি : সংগৃহীত

মিষ্টির আড়ালে শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর? ছবি : সংগৃহীত

মিষ্টি ছাড়া আমাদের রসনা তৃপ্তি যেন অপূর্ণ থেকে যায়। চা, কফি কিংবা বিকেলের নাস্তায় মিষ্টির উপস্থিতি চাই-ই চাই। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ার সাথে সাথে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে-চিনি নাকি গুড়, কোনটি বেছে নেবেন? সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হতে পারে দুটিই সমান, কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানের হিসেবে এদের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

চিনি কেন ‘সাদা বিষ’ বা হোয়াইট পয়জন?
চিনি তৈরির প্রক্রিয়ায় আখের রসকে বারবার রিফাইন বা পরিশোধন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আখের রসে থাকা ভিটামিন, মিনারেল বা খনিজ উপাদানগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। যা অবশিষ্ট থাকে তাকে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলেন ‘এম্পটি ক্যালরি’ (Empty Calories)।

রক্তে শর্করার মাত্রা: চিনি খাওয়ার সাথে সাথে এটি রক্তে মিশে যায় এবং গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।

লিভারের ক্ষতি: অতিরিক্ত চিনি লিভারে চর্বি জমায় (Fatty Liver), যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

কেমিক্যাল: চিনিকে সাদা করার জন্য সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

গুড় কি আসলেই চিনির চেয়ে ভালো?
গুড় তৈরি হয় আখের রস বা খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে। এটি চিনির মতো পরিশোধিত নয় বলে এতে আখের প্রাকৃতিক গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।

পুষ্টিগুণ: গুড়ে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম থাকে। এটি শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

হজমশক্তি: খাওয়ার পর সামান্য গুড় খেলে তা হজমে সহায়তা করে এবং শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায়।

লিভার ডিটক্স: গুড় শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। 

তবে কি গুড় যত খুশি খাওয়া যাবে?
পুষ্টিবিদদের মতে, গুড় চিনির চেয়ে ভালো হলেও এটি পুরোপুরি ‘ক্যালরি মুক্ত’ নয়। গুড়েও প্রচুর পরিমাণে সুক্রোজ থাকে। তাই আপনি যদি ওজন কমাতে চান বা আপনি যদি ডায়াবেটিক রোগী হন, তবে গুড় খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনি বা গুড়—উভয়ই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেজ্ঞের পরামর্শ
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করা একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। বিশেষ করে চায়ের সাথে বা পিঠা-পায়েসে চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় ব্যবহার করলে শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের চাহিদা পূরণ হয়। তবে মনে রাখবেন, পরিমিতিবোধই হলো সুস্বাস্থ্যের আসল চাবিকাঠি।

চিনি ও গুড়ের লড়াইয়ে গুড় স্পষ্ট ব্যবধানে বিজয়ী। শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে বাঁচতে সাদা চিনিকে 'না' বলুন এবং প্রাকৃতিক গুড়কে আপন করে নিন। তবে কেনার সময় অবশ্যই দেখে নেবেন গুড়টি খাঁটি কি না, কারণ বর্তমানে বাজারে কেমিক্যাল মেশানো ভেজাল গুড়ও পাওয়া যায়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!